হিসাব নিয়ে মিটিং পরিকল্পিতভাবে মিটিং শেষে তৃণমূল নেতাকে পিটিয়ে খুনের অভিযোগ

নিজস্ব সংবাদদাতা :: সংবাদ প্রবাহ :: মঙ্গলকোট :: সোমবার ৮,জুন :: পূর্ব বর্ধমানের মঙ্গলকোটে পুরাতনহাট তলায় একটি মিটিংয়ের আলোচনা সভাকে কেন্দ্র করে তৃণমূল কংগ্রেস নেতার মৃত্যুর ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

গ্রামের বারোয়ারি পুজো কমিটির আর্থিক হিসাব নিয়ে ডাকা এক মিটিংয়ে মারধরের শিকার হয় তৃণমূলের অঞ্চল সভাপতি মিহির ঘোষ বলে অভিযোগ। গুরুতর জখম অবস্থায় টানা ৮দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর বর্ধমানের এক বেসরকারি নার্সিংহোমে রবিবার তাঁর মৃত্যু হয়।

পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে খুনের মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত মিহির ঘোষ ৬২বছর বয়স, পূর্ব বর্ধমান জেলার মঙ্গলকোটের বাসিন্দা এবং মঙ্গলকোট অঞ্চলের তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি ছিলেন।

গত ৩১ মে তাঁকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যান মিটিংয়ে পুরাতনহাটতলায়,।সেখানে মিটিং শেষে লাইট বন্ধ করে তার উপর হামলা চালায় দুষ্কৃতীরা বলে অভিযোগ।

পরিকল্পিতভাবে ইট লাঠি অস্ত্র দিয়ে তার উপর হামলা হয় বলে অভিযোগ পরিবারের। এলাকার একটি বারোয়ারি পুজো কমিটির আর্থিক হিসাব-নিকাশ নিয়ে পুরাতনহাট ধর্মরাজতলায় একটি মিটিংয়ের আয়োজন করা হয়েছিল। সেই মিটিংয়েই বচসার জেরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

মারধরের জেরে তিনি রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে মঙ্গলকোট প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্র নিয়ে যাওয়া অবস্থার অবনতি হলে সেখান থেকে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

সেখানেও তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে কোলকাতায় রেফার করা হয়,তারপর সেখান থেকে বর্ধমানের একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে স্থানান্তরিত করা হয়। সেখানে টানা আট দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করার পর রবিবার তাঁর মৃত্যু হয়। মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় উত্তেজনা ছড়ায়।

ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুরাতনহাট গ্রাম ও আশপাশের এলাকায় চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিবারের তরফে মঙ্গলকোট থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ খুনের মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে।

পুলিশ সূত্রে খবর, ঘটনায় জড়িত সন্দেহে পাঁচজনের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। অভিযুক্তদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের জন্য তল্লাশি শুরু হয়েছে। মারধরের নেপথ্যে প্রকৃত কারণ এবং ঘটনার সম্পূর্ণ পরিস্থিতি খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

three × four =