নিজস্ব সংবাদদাতা :: সংবাদ প্রবাহ :: মেমারি :: বৃহস্পতিবার ১২,মার্চ :: সারাদিন রোদে পুড়ে মাঠে খেটে চলেছেন চাষীরা। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মাটির সঙ্গে লড়াই, শুধু এই আশায় — ফসল ভালো হলে সংসারে একটু হাসি ফুটবে।
কিন্তু অবশেষে সেই চাষীর মাথায় হাত, মুখে নেই হাসি, কপালে শুধু চিন্তার ভাঁজ। রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় এ বছর আলুর ফলন ভালো হয়েছে। মেমারিতেও কোথাও ভালো ফলন হয়েছে, আবার কোথাও ফসল ঠিকমতো হয়নি।
যাদের জমিতে আলু ভালো হয়েছে, তারাও লোকসানের মুখে। আর যাদের ফসল ভালো হয়নি, তাদের অবস্থা আরও ভয়াবহ — খরচই উঠছে না।
ঋণের বোঝা থেকেই যাচ্ছে। তারপরেও বাধ্য হয়ে চাষ বেছে নিচ্ছে। চাষীদের অভিযোগ, এক বিঘা জমিতে আলু চাষ করতে খরচ হচ্ছে ৩০ থেকে ৩২ হাজার টাকা। অথচ আলু বিক্রি করে হাতে আসছে মাত্র ২৫ হাজার টাকার মতো।
তার উপর আলুর বস্তার দাম নেমে এসেছে প্রায় ২৩০ টাকায়। এত কম দামে বিক্রি করে কীভাবে সংসার চলবে? আর কীভাবে ঋণ শোধ হবে। চাষীদের প্রশ্ন —আমরাই কি সব সময় লোকসান দেব? ফসল মাঠে থাকতে দাম কম, আর সব আলু স্টোরে চলে গেলে কি আবার দাম বাড়বে? যদি বাড়ে, তাহলে সেই লাভ কার ঘরে যাবে?
চাষীদের দাবি, বেশি লাভ না হোক, অন্তত যেন খরচের টাকা উঠে আসে। নইলে এভাবে আর কতদিন রোদে পুড়ে, ঋণ করে, লোকসান দিয়ে চাষ করবে মানুষ? আজ আবারও প্রশ্ন উঠছে —বারবার চাষীর সঙ্গেই কেন এমন হয়? ফসলের ন্যায্য দাম কি কোনোদিন পাবে কৃষক? নাকি এভাবেই ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে খেটে যেতে হবে তাদের।
