নিজস্ব সংবাদদাতা :: সংবাদ প্রবাহ :: হাওড়া :: বৃহস্পতিবার ১৬,জুলাই :: ৩.৯০ কোটির ব্যাঙ্ক জালিয়াতি মামলা তে গ্রেফতার করল লালবাজার, উদ্ধার নগদ ১.৫৫ কোটি। তার বিরুদ্ধে BNS-এর 316(2)/318 (4)/ 336(3) /338/340(2)/61(2) ধারায় মামলা করা হয়েছে।
পঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্ক থেকে কোটি কোটি টাকার জালিয়াতির মামলায় অবশেষে বড়সড় সাফল্য পেল কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ।
ভুয়ো বিল্ডিং স্যাংকশন প্ল্যান দেখিয়ে প্রায় ৩ কোটি ৯০ লক্ষ টাকা লোন নিয়ে প্রতারণার অভিযোগে হাওড়া থেকে ৩ ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে ডিডি এসআইটি (DD SIT)-র একটি বিশেষ টিম।
ধৃতদের নাম মানস রায়, তাপস রায় ও তন্ময় রায়। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে গত রাতে হাওড়ার নন্দলাল চ্যাটার্জি লেনের একটি আবাসনে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। এই অভিযানে অ্যান্টি ব্যাঙ্ক ফ্রড সেলের আধিকারিকরাও গোয়েন্দাদের সাহায্য করেন।
কলকাতা পুলিশের সেন্টাল ডিভিশনের ডিডি-র পক্ষ থেকে সাংবাদিক বৈঠকে জানানো হয়, ২০১৫ সালের নভেম্বর মাসে পঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্কের সিআর অ্যাভিনিউ ব্রাঞ্চের চিফ ম্যানেজারের পক্ষ থেকে হেয়ার স্ট্রিট থানায় একটি জালিয়াতির অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল।
অভিযোগে জানানো হয়, ‘মেসার্স ইনিংস ভেঞ্চারস প্রাইভেট লিমিটেড’ নামক ওই সংস্থার ডিরেক্টররা ব্যাঙ্ক থেকে কটন ফ্যাব্রিকের ব্যবসার নাম করে বিপুল পরিমাণ ঋণ নেন।
পরবর্তীতে ব্যবসা ডাইভার্সিফাই করার অজুহাতে এফএমসিজি প্রোডাক্ট ও এসি-ফ্রিজ কেনাবেচার নাম করে ৩.৯০ কোটি টাকার ক্যাশ ক্রেডিট লোন মঞ্জুর করায় তারা।
তদন্তে নেমে গোয়েন্দারা জানতে পারেন, লোন পাওয়ার জন্য অভিযুক্তরা হাওড়া মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের একটি ভুয়ো বিল্ডিং স্যাংকশন প্ল্যান (নম্বর BRC 506, 2017-18) জমা দিয়েছিল।
৭ কাঠা জমির ওপর ১২টি ফ্ল্যাট তৈরির ওই নকশাটি সম্পূর্ণ জাল ছিল বলে ইতিমধ্যেই হাওড়া পুরসভা লিখিতভাবে পুলিশকে জানিয়েছে।
পরবর্তীতে ২০২০ সালে অ্যাকাউন্টটি এনপিএ বা অনাদায়ী ঋণ হিসেবে ঘোষিত হয়। ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষের দীর্ঘ চেষ্টার পরেও কোনও ইএমআই বা লোন রিফান্ড না করায় অবশেষে পুলিশের দ্বারস্থ হয় পিএনবি। বর্তমানে সুদ সমেত বকেয়া টাকার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬ কোটি ৬০ লক্ষ টাকা।
গোয়েন্দা সূত্রের খবর, গত রাতের তল্লাশিতে ধৃতদের বাড়ি থেকে নগদ ১ কোটি ৫৫ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা উদ্ধার ও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। বিপুল পরিমাণ এই লোন নিয়ে অভিযুক্তরা একাধিক ভুয়ো ও সিস্টার কনসার্ন কোম্পানির মাধ্যমে টাকা অন্যত্র সরিয়ে ফেলেছিল বলে অনুমান।
ধৃতদের মধ্যে মূল অভিযুক্ত মানস রায়ের বিরুদ্ধে এর আগেও হাওড়া কমিশনারেটের অধীনে ডোমজুড় ও চ্যাটার্জিহাট থানায় প্রতারণা ও জালিয়াতির একাধিক মামলা রুজু রয়েছে।
ধৃতদের আজই ব্যাঙ্ক ফ্রড মামলার নির্দিষ্ট ধারায় আদালতে পেশ করে পুলিশি হেফাজতের আবেদন জানানো হবে। এই ঘটনার সঙ্গে ব্যাঙ্কের কোনও আধিকারিক জড়িত ছিলেন কি না, তাও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

