৬৩০ তম বর্ষে পদার্পণ করলো মহেশের ঐতিহাসিক স্নানযাত্রা – স্নান দেখতে ভক্তদের ভিড় শ্রীরামপুরে

জাকির আলী  :: সংবাদ প্রবাহ :: শ্রীরামপুর (মহেশ) :: সোমবার ২৯,জুন :: হুগলি জেলার মাহেশ জগন্নাথ মন্দির-এ অনুষ্ঠিত স্নানযাত্রা বাংলার অন্যতম প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় উৎসব। প্রতি বছর জ্যৈষ্ঠ পূর্ণিমা তিথিতে এই উৎসব পালিত হয়।

এই দিনেই ভগবান জগন্নাথ, বলভদ্র ও সুভদ্রা-কে ১০৮টি পবিত্র কলসের জল দিয়ে মহাস্নান করানো হয়। তারপর ২৮ ঘোড়া গঙ্গার জল, দেড় মণ দুধ দিয়ে স্নান করানো হয় জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রা কে।স্নানযাত্রার দিন ভোর থেকেই মন্দিরে বিশেষ পূজা, মঙ্গল আরতি, বৈদিক মন্ত্রোচ্চারণ এবং কীর্তনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। হাজার হাজার ভক্ত এই পবিত্র স্নান দর্শনের জন্য মন্দিরে ভিড় জমান। বিশ্বাস করা হয়, এই স্নানদর্শন করলে পুণ্যলাভ হয় এবং জীবনের নানা বাধা-বিপত্তি দূর হয়।

স্নানের পর লোকবিশ্বাস অনুযায়ী দেবতারা ‘জ্বরে আক্রান্ত’ হন। এরপর তাঁদের সাধারণ দর্শনের জন্য রাখা হয় না। এই সময়কে অনবসর (অনাসারা) বলা হয়। প্রায় পনেরো দিন দেবতারা বিশ্রামে থাকেন এবং বিশেষ সেবাপদ্ধতিতে তাঁদের পরিচর্যা করা হয়।

এই সময় মন্দিরে নিয়মিত দর্শন বন্ধ থাকে। ১৫ দিন জগন্নাথের জ্বর আসে, ১৫ দিন পর মুখের অরুচি ভাব কাটানোর জন্য নিয়ে যাওয়া হয় মাসির বাড়ি। আগামী ১৬ জুলাই রথে করে মাসির বাড়ির উদ্যেশে রওনা দেয় জগন্নাথ, বলরাম,সুভদ্রা।

অবসর শেষে দেবতারা ‘নবযৌবন’ রূপে পুনরায় ভক্তদের দর্শন দেন। এরপরই শুরু হয় মাহেশের ঐতিহাসিক রথযাত্রা, যা বাংলার প্রাচীনতম রথ যাত্রাগুলির মধ্যে অন্যতম এবং লক্ষাধিক মানুষের সমাগমে উৎসবমুখর হয়ে ওঠে।

কথিত আছে নীলকণ্ঠ পাখি-কে ঘিরে মাহেশের মাহেশ জগন্নাথ মন্দির-এ বহু বছরের একটি লোকবিশ্বাস ও ঐতিহ্য প্রচলিত রয়েছে।রথযাত্রা ও স্নানযাত্রার সময় মন্দির প্রাঙ্গণে নীলকণ্ঠ পাখির দেখা মেলে বলে অনেক ভক্ত ও স্থানীয় মানুষের বিশ্বাস। অনেকে মনে করেন, এই পাখির আগমন শুভ লক্ষণ এবং ভগবান জগন্নাথ-এর আশীর্বাদের প্রতীক।

তবে উল্লেখযোগ্য যে, নীলকণ্ঠ পাখির আগমনকে ঘিরে প্রচলিত এই বিশ্বাস মূলত লোকঐতিহ্য ও জনশ্রুতির ওপর ভিত্তি করে। এটি কোনো প্রতিষ্ঠিত ধর্মীয় বিধান বা বৈজ্ঞানিকভাবে নিশ্চিত ঘটনা নয়। প্রতি বছর পাখিটি আসবেই—এমন নিশ্চয়তাও নেই।

ভারতে নীলকণ্ঠ পাখি আইন দ্বারা সংরক্ষিত একটি বন্যপ্রাণী। তাই পাখিটিকে ধরা, খাঁচায় রাখা বা উড়িয়ে দেওয়া আইনত দণ্ডনীয়। বর্তমানে যদি পাখিটি মন্দির চত্বরে আসে, তবে সেটিকে স্বাভাবিকভাবে আসা-যাওয়া করতে দেওয়াই উচিত এবং কোনোভাবে বিরক্ত করা উচিত নয়।

মাহেশের এই নীলকণ্ঠ-সম্পর্কিত ঐতিহ্য আজও ভক্তদের কাছে কৌতূহল ও ভক্তিভাবের এক বিশেষ অনুষঙ্গ হয়ে রয়েছে। এটি ধর্মীয় বিশ্বাস, লোকসংস্কৃতি এবং প্রকৃতির প্রতি শ্রদ্ধাবোধের এক অনন্য উদাহরণ।
এক কথায় জমজমাট হয়ে উঠেছে মাহেশের ঐতিহাসিক স্নানযাত্রা পুলিশ নিরাপত্তা ছিল চোখে পড়ার মতন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

fourteen − 2 =