আনন্দ মুখোপাধ্যায় :: সংবাদ প্রবাহ :: কলকাতা :: বুধবার ১২,আগস্ট :: নেতাজি সুভাষচন্দ্র বোসকে সমাজ মাধ্যমে অসম্মান করার অভিযোগে কঠোর ব্যবস্থার নির্দেশ দিল রাজ্য সরকার। বুধবার উত্তরবঙ্গের বিজেপি বিধায়কদের একাংশ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারির সঙ্গে দেখা করে সমাজমাধ্যমে নেতাজিকে অসম্মানের বিষয়টি উত্থাপন করেন।
পরে মুখ্যমন্ত্রী জানান, যারা এই দুঃসাহস দেখিয়েছে পুলিশ বিষয়টি ভালো ভাবে নিচ্ছে না, অবিলম্বে পোস্ট ডিলিট করুন ও ক্ষমা চান। যদিও ক্ষমা চাইলেই রেহাই মিলবে এমনটা নয়।
নেতাজীকে নিয়ে কোনও বিতর্কিত মন্তব্য যে রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া তৈরি করতে পারে, তা মাথায় রেখেই দলীয় বিধায়কদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।
মুখ্যমন্ত্রীর বার্তা—রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতে পারে, কিন্তু জাতীয় বীরকে অসম্মান করার অধিকার কারও নেই। এই পরিস্থিতির সবচেয়ে আলোচিত দিক হল রাজ্যসভার বিজেপি সাংসদ অনন্ত মহারাজের প্রসঙ্গ।
নগেন রায় নামে পরিচিত অনন্ত মহারাজ উত্তরবঙ্গে রাজবংশী সমাজের অন্যতম প্রভাবশালী রাজনৈতিক মুখ। সম্প্রতি নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসুর স্বাধীনতা সংগ্রামে ভূমিকা এবং আজাদ হিন্দ ফৌজ নিয়ে তাঁর মন্তব্যকে কেন্দ্র করে প্রবল বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে তাঁর মন্তব্যের বিরুদ্ধে রাজবংশী বুদ্ধিজীবীদের একাংশও সরব হয়েছেন।
এমনকি কোচবিহারে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হওয়ার ঘটনাও সামনে এসেছে। অভিযোগকারীদের বক্তব্য, নেতাজী ও তাঁর আদর্শ সম্পর্কে করা মন্তব্যে তাঁরা গভীরভাবে আঘাত পেয়েছেন।
ফলে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বৈঠকে অনন্ত মহারাজের প্রসঙ্গ ওঠা রাজনৈতিকভাবে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।
সরকারের অবস্থানকে ঘিরে যে বার্তাটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, তা হল—বিষয়টি কোনও ব্যক্তি বা দলের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা নয়; বরং নেতাজীর ঐতিহাসিক মর্যাদা রক্ষার প্রশ্ন।
মুখ্যমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ মহলের বক্তব্য, কেউ বিজেপির সাংসদ হন বা অন্য কোনও দলের নেতা—নেতাজীকে নিয়ে অবমাননাকর বক্তব্য রাখলে একই আইন সকলের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে।
বাঙালি হিসাবে বাংলার আপামর জনগণও চায় মুখ্যমন্ত্রী নেতাজির এই অসম্মানকে কঠোর হাতে মোকাবিলা করুন যাতে আগামীতে কেউ এই স্পর্ধা দেখতে না পারে ।

