নিজস্ব সংবাদদাতা :: সংবাদ প্রবাহ :: কলকাতা :: বুধবার ২২,এপ্রিল :: নির্বাচনী আবহে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় যে ঢালাও গ্রেপ্তারি অভিযান শুরু হয়েছিল,
তার ওপর অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ জারি করল কলকজাত হাই কোর্ট । এই রায়ে রাজনৈতিক মহল থেকে সাধারণ নাগরিক—সব স্তরেই শুরু হয়েছে জোর আলোচনা।
গত কয়েকদিনে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় বিরোধী দল ও শাসক দলের একাধিক কর্মী-সমর্থককে “প্রিভেন্টিভ অ্যাকশন”-এর নামে গ্রেপ্তার করা হচ্ছিল।
অভিযোগ ওঠে, নির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়াই নির্বিচারে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে, যা মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী। এই প্রেক্ষিতে একাধিক নাগরিক ও রাজনৈতিক কর্মী হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন।
শুনানির সময় হাইকোর্ট স্পষ্ট জানায়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার নামে নাগরিকদের ব্যক্তিস্বাধীনতা খর্ব করা যায় না। আদালত প্রশ্ন তোলে, “যথাযথ প্রমাণ ও নির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়া এত বড় পরিসরে গ্রেপ্তারির যুক্তি কী?”
বিচারপতি পর্যবেক্ষণ করেন, প্রশাসনের পদক্ষেপ যেন সংবিধানসম্মত সীমার মধ্যে থাকে এবং কোনওভাবেই তা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত না হয়।
আদালত নির্দেশ দেয়, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এ ধরনের ঢালাও গ্রেপ্তারি অভিযান বন্ধ রাখতে হবে। পাশাপাশি, ইতিমধ্যে যাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে আইনি প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করার কথাও বলা হয়েছে।
এই রায়কে স্বাগত জানিয়েছে বিরোধী শিবির। তাদের দাবি, নির্বাচনকে প্রভাবিত করতেই এই গ্রেপ্তারি অভিযান চালানো হচ্ছিল। অন্যদিকে শাসকদলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাই ছিল মূল উদ্দেশ্য এবং আদালতের নির্দেশ মেনে চলা হবে।
নির্বাচন কমিশন এর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আদালতের নির্দেশ পর্যালোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। কমিশন এ-ও জানিয়েছে, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করাই তাদের প্রধান লক্ষ্য।
আইন বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, এই রায় নাগরিক অধিকার রক্ষার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। একই সঙ্গে প্রশাসনের ভূমিকা ও ক্ষমতার সীমা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠল।
নির্বাচনের প্রাক্কালে এই রায় যে রাজনৈতিক সমীকরণে প্রভাব ফেলতে পারে, তা বলাই বাহুল্য। এখন দেখার, প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশন কীভাবে আদালতের নির্দেশ মেনে পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়।

