২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল গোটা এলাকা। নির্বাচন চলাকালীন একাধিক অভিযোগ, অশান্তি ও অনিয়মের অভিযোগ সামনে আসার পর নির্বাচন কমিশন ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রে আগামী ২১ মে পুনর্নির্বাচনের ঘোষণা করেছে।
আর তার মধ্যেই তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী জাহাঙ্গীর খান ওরফে ‘পুস্পা’-র বিরুদ্ধে একাধিক দুর্নীতির অভিযোগ তুলে ফলতা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করলেন বিজেপি নেতা তথা ২০২১ সালের ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী বিধান বারুই।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে রাজনৈতিক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এলাকা জুড়ে।
বৃহস্পতিবার ফলতা থানায় পৌঁছন বিজেপি নেতা বিধান বারুই ও তাঁর অনুগামীরা। থানার সামনে কিছুক্ষণ বিক্ষোভও দেখানো হয় বিজেপির পক্ষ থেকে। এরপর থানার আধিকারিকদের হাতে লিখিত অভিযোগপত্র তুলে দেন বিধান বারুই।
অভিযোগপত্রে জাহাঙ্গীর খানের বিরুদ্ধে জমি দখল, প্রভাব খাটিয়ে সাধারণ মানুষকে ভয় দেখানো, সরকারি সুযোগ-সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার নামে দুর্নীতি, বেআইনি আর্থিক লেনদেন-সহ একাধিক গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে বলে বিজেপি সূত্রে দাবি।
বিধান বারুই অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরেই ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূল কংগ্রেসের নাম করে সন্ত্রাস ও ভয়ের পরিবেশ তৈরি করা হয়েছিল। তাঁর দাবি, সাধারণ মানুষ প্রকাশ্যে মুখ খুলতে না পারলেও ভিতরে ভিতরে ক্ষোভ জমছিল। এবারের নির্বাচনে সেই ক্ষোভ বিস্ফোরিত হয়েছে।
ভোটের দিন একাধিক বুথ থেকে সন্ত্রাস, ভোটারদের বাধা দেওয়া, বিরোধী এজেন্টদের মারধর, বুথ দখলের চেষ্টা-সহ নানা অভিযোগ নির্বাচন কমিশনের কাছে জমা পড়ে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝেই কমিশন পুনর্নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে দাবি বিজেপি নেতার।
তিনি আরও বলেন, “ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে অত্যাচার সহ্য করেছেন। জমি দখল থেকে শুরু করে বিভিন্ন দুর্নীতির মাধ্যমে সাধারণ মানুষের জীবন দুর্বিষহ করে তোলা হয়েছিল। মানুষ এখন পরিবর্তন চাইছে। তাই আমরা প্রশাসনের কাছে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছি। কোনও অপরাধীকে রেয়াত করা উচিত নয়।”

