সুদেষ্ণা মন্ডল :: সংবাদ প্রবাহ :: ফলতা :: বৃহস্পতিবারে ২১,মে :: দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রে বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই ভোটগ্রহণকে ঘিরে ছিল ব্যাপক উৎসাহ।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, বেলা ১১টা পর্যন্ত এই কেন্দ্রে মোট ভোট পড়েছে ৪২.৮৩ শতাংশ। সকাল থেকেই বিভিন্ন বুথে দীর্ঘ লাইন চোখে পড়ে। নারী ভোটারদের উপস্থিতিও ছিল উল্লেখযোগ্য।
তবে ভোটের আবহে সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে তৃণমূলের প্রার্থী জাহাঙ্গীরের অনুপস্থিতি। স্থানীয় সূত্রের দাবি, ভোটের দিন সকাল থেকে তাঁকে এলাকায় দেখা যায়নি। এমনকি দলীয় ক্যাম্প বা গুরুত্বপূর্ণ বুথগুলিতেও তাঁর অনুপস্থিতি নিয়ে কর্মী-সমর্থকদের মধ্যেই তৈরি হয়েছে প্রশ্ন।
গত ৪৮ ঘণ্টা ধরেই ফলতার রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তপ্ত। এর আগেই জাহাঙ্গীরের প্রার্থীপদ নিয়ে নানা জল্পনা তৈরি হয়েছিল। বিরোধীদের অভিযোগ, দলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব এবং স্থানীয় স্তরে ক্ষোভের জেরেই তিনি কার্যত প্রচারের ময়দান থেকে সরে গিয়েছেন। যদিও তৃণমূল নেতৃত্ব আনুষ্ঠানিকভাবে এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
ভোটের দিন সকালে ফলতার বেশ কয়েকটি এলাকায় শাসক ও বিরোধী দলের কর্মীদের মধ্যে বচসার খবর পাওয়া গিয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত বড় ধরনের অশান্তির খবর নেই। কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং রাজ্য পুলিশকে একাধিক স্পর্শকাতর বুথে মোতায়েন করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের পর্যবেক্ষকরাও পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখছেন
অন্যদিকে বিজেপি নেতৃত্ব দাবি করেছে, ফলতায় “নীরব পরিবর্তনের হাওয়া” বইছে। স্থানীয় বিজেপি নেতাদের বক্তব্য, সাধারণ মানুষ এবার শাসক দলের বিরুদ্ধে ভোট দিচ্ছেন বলেই তৃণমূল শিবিরে অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। তাদের আরও দাবি, জাহাঙ্গীরের অনুপস্থিতি সেই অস্বস্তিরই প্রতিফলন।
তৃণমূলের জেলা নেতৃত্ব অবশ্য পাল্টা দাবি করেছে, বিরোধীরা ইচ্ছাকৃতভাবে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে। তাদের বক্তব্য, “প্রার্থী কোথায় আছেন তা গুরুত্বপূর্ণ নয়, সাধারণ মানুষ উন্নয়নের পক্ষেই ভোট দিচ্ছেন।”
দুপুর গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে ফলতার বিভিন্ন বুথে ভোটারের ভিড় আরও বাড়তে পারে বলে মনে করছে প্রশাসন। আপাতত শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় থাকলেও রাজনৈতিক উত্তেজনা যে তুঙ্গে, তা স্পষ্ট ফলতার ভোটযুদ্ধে।

