নিজস্ব সংবাদদাতা :: সংবাদ প্রবাহ :: কলকাতা :: শনিবার ২৩,মে :: আসন্ন বখরি ঈদ উপলক্ষে সরকারি ছুটির তালিকায় পরিবর্তন আনল রাজ্য সরকার। পূর্ব নির্ধারিত দু’দিনের পরিবর্তে এবার মাত্র একদিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।
নবান্ন সূত্রে খবর, আগামী ২৮ মে রাজ্যের সমস্ত সরকারি দফতর, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত অধিকাংশ সংস্থা বন্ধ থাকবে। তবে ২৯ মে থেকে স্বাভাবিক কাজকর্ম চালু রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
রাজ্য সরকারের এই সিদ্ধান্ত ঘিরে প্রশাসনিক মহল থেকে রাজনৈতিক অঙ্গন— সর্বত্রই শুরু হয়েছে জোর আলোচনা।নবান্নের এক শীর্ষ আধিকারিক জানিয়েছেন, চলতি বছরের প্রশাসনিক কাজের চাপ,
একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের সময়সীমা এবং আর্থিক বর্ষের বিভিন্ন দপ্তরভিত্তিক কাজের কারণে দীর্ঘ ছুটি এড়ানোর পক্ষেই মত দেয় সরকার। সেই কারণেই কেন্দ্রের সাথে মিলিয়ে এবার একদিনের ছুটির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, স্বাস্থ্য পরিষেবা, বিদ্যুৎ, দমকল, বিপর্যয় মোকাবিলা এবং জরুরি পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের ক্ষেত্রে আগের মতোই বিশেষ ডিউটি ব্যবস্থা কার্যকর থাকবে। জেলা প্রশাসনগুলিকেও উৎসব চলাকালীন আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে বিশেষ সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এই সিদ্ধান্তে সরকারি কর্মচারীদের একাংশের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকের বক্তব্য, উৎসব উপলক্ষে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ কমে গেল।
বিশেষ করে যাঁদের আত্মীয়স্বজন ভিন জেলা বা ভিন রাজ্যে থাকেন, তাঁদের জন্য একদিনের ছুটি যথেষ্ট নয় বলেই মত কর্মচারীদের একাংশের। অন্যদিকে প্রশাসনের একাংশ মনে করছে, দীর্ঘ ছুটি কমানোয় সরকারি পরিষেবা সচল থাকবে এবং সাধারণ মানুষের কাজকর্মে প্রভাব কম পড়বে।
রাজনৈতিক মহলেও বিষয়টি নিয়ে চাপানউতোর শুরু হয়েছে। বিরোধীদের অভিযোগ, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অন্যতম বড় ধর্মীয় উৎসবের ক্ষেত্রে ছুটি কমিয়ে সরকার ভুল বার্তা দিচ্ছে। যদিও শাসকদলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, এটি সম্পূর্ণ প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত এবং কোনও ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে এর সম্পর্ক নেই।
ইতিমধ্যেই রাজ্যের বিভিন্ন সরকারি দফতরে সংশোধিত ছুটির নির্দেশিকা পাঠানো শুরু হয়েছে। শিক্ষা দফতর থেকেও স্কুলগুলিকে নতুন নির্দেশিকা মেনে চলার কথা জানানো হয়েছে। ফলে এবার বখরি ঈদের আবহে রাজ্য জুড়ে উৎসবের আনন্দের পাশাপাশি ছুটির মেয়াদ নিয়েও চর্চা তুঙ্গে উঠেছে।

