সুদেষ্ণা মন্ডল :: সংবাদ প্রবাহ :: ফলতা :: রবিবার ২৪,মে :: পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মানচিত্রে ফের একবার বড় বার্তা দিল দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা বিধানসভা কেন্দ্র। পুনর্নির্বাচনে বিজেপি প্রার্থী দেবাংশু পাণ্ডার রেকর্ড জয়ের পাশাপাশি রাজনৈতিক মহলে সবচেয়ে বেশি চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে সিপিএমের অপ্রত্যাশিত উত্থান।
একসময় কার্যত অস্তিত্বহীন হয়ে পড়া বাম শিবির এই কেন্দ্রে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের ইঙ্গিত দিল। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, বিজেপি প্রার্থী দেবাংশু পাণ্ডা প্রায় ১ লক্ষ ৯ হাজার ভোটে জয়ী হয়েছেন। তিনি পেয়েছেন প্রায় ১ লক্ষ ৪৯ হাজারেরও বেশি ভোট।

অন্যদিকে সিপিএম প্রার্থী শম্ভুনাথ কুর্মি প্রায় ৪০ হাজারের বেশি ভোট পেয়ে দ্বিতীয় স্থানে উঠে আসেন। কংগ্রেস তৃতীয় এবং তৃণমূল কংগ্রেস চতুর্থ স্থানে নেমে যায়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ফলতার এই ফলাফল শুধুমাত্র বিজেপির শক্তি বৃদ্ধির ইঙ্গিত নয়, বরং বাম ভোটের পুনরুজ্জীবনেরও বড় বার্তা। দীর্ঘদিন পরে সিপিএম সংগঠিতভাবে মাঠে নেমে যে লড়াই করেছে, তা ভোটের অঙ্কে স্পষ্ট হয়েছে। বিশেষ করে গ্রামীণ বুথগুলিতে সিপিএমের ভোট বৃদ্ধির প্রবণতা নজর কেড়েছে।
বিজেপির বিরুদ্ধে সরাসরি লড়াইয়ে সিপিএমের উঠে আসা ভবিষ্যতের বিরোধী রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে বলে মত রাজনৈতিক মহলের একাংশের।
ফলতা কেন্দ্রটি এবারের নির্বাচনে বিশেষ গুরুত্ব পায় পুনর্ভোটের কারণে। ভোটে অনিয়ম ও অশান্তির অভিযোগে নির্বাচন কমিশন পুনর্নির্বাচনের নির্দেশ দিয়েছিল। পরে তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গীর খান ভোটের আগে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা করেন। তার ফলে মূল লড়াই কার্যত বিজেপি ও বামেদের মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে যায়।
ভোটগ্রহণে প্রায় ৮৬ শতাংশের বেশি ভোট পড়ে, যা রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেও সাধারণ মানুষের আগ্রহকে স্পষ্ট করে। বিজেপি নেতৃত্ব এই ফলকে “জনতার রায়” বলে ব্যাখ্যা করেছে। অন্যদিকে বাম শিবিরের দাবি, বহু বছর পর মানুষ বিকল্প বিরোধী শক্তি হিসেবে আবার সিপিএমের উপর আস্থা রাখতে শুরু করেছে।
রাজ্যের নতুন রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ফলতার ফলাফল বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। বিজেপি সরকার গঠনের পর এই জয় তাদের সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করল। একইসঙ্গে সিপিএমের ভোট বৃদ্ধি বুঝিয়ে দিল, বাংলার রাজনীতিতে বামেদের সম্পূর্ণ শেষ বলে যে ধারণা তৈরি হয়েছিল, তা হয়তো বদলাতে শুরু করেছে।

