নিজস্ব সংবাদদাতা :: সংবাদ প্রবাহ :: কোলকাতা :: সোমবার ১,জুন :: কলকাতার রাজনৈতিক মঞ্চে ভয়াবহ ভুমিকম্পের আশংকা – আসছে কি নয়া তৃনমূল / নেতৃত্বে ঋতব্রত ও সন্দীপন সাহা !!
পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নজিরবিহীন অস্থিরতা তৈরি করে তৃণমূল কংগ্রেস থেকে বেরিয়ে এসে ৬০ জন বিধায়ককে সঙ্গে নিয়ে নতুন রাজনৈতিক দল গঠনের ঘোষণা করলেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়।
সোমবার কলকাতায় এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি নতুন দলের আত্মপ্রকাশ ঘটিয়ে দাবি করেন, বিধানসভায় তাঁদের দলই এখন সংখ্যার বিচারে প্রধান বিরোধী শক্তি এবং সেই মর্যাদা পাওয়ার অধিকারী। রাজনৈতিক মহলে এই ঘটনাকে রাজ্যের সাম্প্রতিক ইতিহাসে সবচেয়ে বড় দলবদল হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ঋতব্রতের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই তৃণমূলের অন্দরমহলে গণতান্ত্রিক পরিবেশ নষ্ট হচ্ছিল এবং নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের মতামতের কোনও মূল্য ছিল না। সেই কারণেই তাঁরা নতুন রাজনৈতিক মঞ্চ গড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
সাংবাদিক বৈঠকে ঋতব্রত বলেন, “এটি কোনও ব্যক্তিগত লড়াই নয়। বাংলার মানুষের স্বার্থে এবং গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতেই আমরা নতুন পথ বেছে নিয়েছি।
বিধানসভায় আমাদের সদস্য সংখ্যা ৬০। তাই নিয়ম অনুযায়ী আমরাই প্রধান বিরোধী দলের স্বীকৃতি পাওয়ার দাবিদার।” নতুন দলের নাম, পতাকা ও সাংগঠনিক কাঠামোও প্রকাশ করা হয়।
দলের তরফে জানানো হয়েছে, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে রাজ্যের সমস্ত জেলায় সাংগঠনিক কমিটি গঠন করা হবে এবং ব্যাপক জনসংযোগ কর্মসূচি নেওয়া হবে।
অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেস এই ঘটনাকে ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ বলে কটাক্ষ করেছে। দলের শীর্ষ নেতৃত্বের বক্তব্য, ব্যক্তিগত উচ্চাকাঙ্ক্ষা চরিতার্থ করতেই কিছু নেতা দল ছেড়েছেন। তৃণমূলের এক মুখপাত্র বলেন, “দল মানুষের সঙ্গে রয়েছে। কয়েকজন বিধায়ক চলে গেলেই তৃণমূল দুর্বল হবে না।”
ঘটনার পরপরই রাজ্য বিধানসভার স্পিকারের কাছে নতুন দলের তরফে পৃথক স্বীকৃতির আবেদন আগামী বুধবার জমা পড়বে বলে জানা গিয়েছে। বিধায়কদের দলত্যাগ সংক্রান্ত সাংবিধানিক ও আইনি বিষয়গুলি খতিয়ে দেখা হবে বলেও বিধানসভা সূত্রে খবর।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ভাঙনের ফলে রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে বড় পরিবর্তন আসতে পারে। আগামী দিনে সরকারের স্থিতিশীলতা, বিধানসভার অঙ্ক এবং বিরোধী রাজনীতির চরিত্র—সবকিছুই নতুন করে আলোচনায় উঠে আসবে।
রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে এখন একটাই প্রশ্ন—ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নতুন দল কি সত্যিই বিকল্প শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারবে, নাকি এই ভাঙন সাময়িক রাজনৈতিক উত্তেজনাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে? তার উত্তর মিলবে আগামী কয়েক মাসের রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহে।
এই খবরটির সরকারি স্বীকৃতি এখনও পাওয়া যায়নি বলেই সূত্রের প্রকাশ ||

