নিজস্ব সংবাদদাতা :: সংবাদ প্রবাহ :: কলকাতা :: বুধবার ৩,জুন :: বিধানসভায় ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় নতুন বিরোধী দলনেতা নির্বাচিত হওয়ার পর কালীঘাট শিবির থেকে এল তীব্র রাজনৈতিক পাল্টা আক্রমণ।
তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দলীয় নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠকে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, “যাঁরা মানুষের ভোটে জিতে অন্য পথে গিয়েছেন, তাঁদের জবাব বাংলার মানুষই দেবেন।”
মঙ্গলবার কালীঘাটে প্রায় তিন ঘণ্টার বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন দলের শীর্ষ নেতা, প্রাক্তন মন্ত্রী এবং সাংগঠনিক পর্যায়ের দায়িত্বপ্রাপ্তরা। বৈঠকে বিদ্রোহী বিধায়কদের ভূমিকা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করা হয় বলে সূত্রের খবর।


দলীয় সূত্রের দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বৈঠকে বলেন, “তৃণমূল কংগ্রেস কোনও ব্যক্তি নির্ভর দল নয়। আন্দোলনের মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠা এই সংগঠনকে দুর্বল করার চেষ্টা আগেও হয়েছে, এখনও হচ্ছে। কিন্তু বাংলার মানুষ সব দেখছেন।”
কালীঘাট শিবিরের অভিযোগ, বিরোধী দলনেতার পদ পাওয়ার লক্ষ্যেই দীর্ঘদিন ধরে পরিকল্পিতভাবে দল ভাঙানোর চেষ্টা চলছিল। যদিও ঋতব্রত শিবির সেই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে।
তৃণমূলের এক প্রবীণ নেতা বলেন, “আজ যারা নিজেদের নতুন বিকল্প বলে দাবি করছেন, তাঁদের অধিকাংশই তৃণমূলের সংগঠন এবং প্রতীকের জোরেই নির্বাচিত হয়েছিলেন। জনগণের রায়কে অসম্মান করে কেউ দীর্ঘদিন রাজনীতি করতে পারে না।”
এদিকে দলীয় কর্মীদের উদ্দেশে বার্তা দিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নাকি বলেছেন, কোনও প্ররোচনায় পা না দিয়ে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করতে হবে। জেলা সভাপতি ও ব্লক নেতৃত্বদেরও দ্রুত সাংগঠনিক বৈঠক করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রাজনৈতিক মহলের মতে, বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা পদ হারানো শুধু সাংগঠনিক নয়, প্রতীকী দিক থেকেও তৃণমূলের জন্য বড় ধাক্কা। তবে কালীঘাট শিবির আপাতত সেই ধাক্কাকে রাজনৈতিক লড়াইয়ে পরিণত করার কৌশল নিয়েছে।
আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই কলকাতায় একটি বড় কর্মিসভার মাধ্যমে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শক্তি প্রদর্শন করতে পারেন বলে দলীয় সূত্রে ইঙ্গিত মিলেছে। সেই সভা থেকেই বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে আরও কড়া রাজনৈতিক অবস্থান ঘোষণা করা হতে পারে।
ঋতব্রতের বিরোধী দলনেতা হিসেবে আত্মপ্রকাশের পর বাংলার রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণের সূচনা হয়েছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। আর সেই লড়াইয়ের প্রথম জবাব দিতে কালীঘাট শিবির যে প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে, তা স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে মঙ্গলবারের বৈঠকের পর।

