১৫ বছর দলে থেকে সুযোগ-সুবিধা ভোগ করে চর্বি জমে গেছে তৃণমূলের বিদ্রোহীদের – সাংসদ মহুয়া মৈত্র

নিজস্ব সংবাদদাতা :: সংবাদ প্রবাহ :: কৃষ্ণনগর :: বৃহস্পতিবার ৪,জুন :: দলের বিপর্যয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় মুখ খুললেন কৃষ্ণনগর লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ মহুয়া মৈত্র। সমস্ত রকম রাষ্ট্রশক্তিকে ব্যবহার করে ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি। নির্বাচন কমিশনকে বিজেপির কাঠ পুতুল বলে বর্ণনা করেছেন সাংসদ।

একই সাথে তার আক্রমণের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল কেন্দ্রীয় বাহিনী ও। ২৭ থেকে ৩০ লক্ষ বৈধ ভোটারকে বাদ দিয়ে তাদের ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করেছে বলে মন্তব্য করেন কৃষ্ণনগরের সাংসদ।

সাংসদের কথায় বিজেপি পেয়েছে ২ কোটি ৯০ লক্ষ ভোট তৃণমূল কংগ্রেস পেয়েছে মমতা ব্যানার্জি নেতৃত্বে তার মুখকে সামনে রেখে ২ কোটি ৬০ লক্ষ। ৪১ শতাংশ ভোট পেয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস।

বিজেপির সাথে ভোটের ব্যবধান ছিল মাত্র ৩০ লক্ষ। এবার সেই সমস্ত জয়ী প্রার্থীদের এক হাত নিয়ে কৃষ্ণনগরের সাংসদ মহুয়া মৈত্র বলেন, যে ৮০ জন জয়ী প্রার্থী লড়াই করেছিল তারা মমতা ব্যানার্জির নেতৃত্বে তার মুখকে সামনে রেখে জোড়া ফুল চিহ্নে তৃণমূল কংগ্রেসে লড়াই করেছিল তারা ।

দলীয় বিদ্রোহী বিধায়কদের উদ্দেশ্য মহুয়া বলেন এমন কোন হনু তারা বলতে পারেন না যে ভোট তারা পেয়েছিলেন সেটা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখ দেখে হয়নি। বিদ্রোহীদের উদ্দেশ্য মহুয়া মৈত্র বলেন, ১৫ বছর ক্ষমতা থাকার পর অনেকের চর্বি জমে গেছে।

বিদ্রোহীদের উদ্দেশ্যে মহুয়া বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শূন্য থেকে শুরু করেছিল। মহুয়া মৈত্র নিজের তুলনা করে জানান, আমরা যখন এই পার্টিতে যোগদান করি আমরা কোনদিন ভাবতে পারিনি যে আমরা সরকারে আসবো।

যখন প্রথম আমি করিমপুরে উপনির্বাচনে লড়াই করতে যাই তখন মহুয়াকে অনেকেই বলেছিল শত্রু দিয়ে বাঘ মারতে পাঠাচ্ছি তোমাকে। আমি গিয়ে করিমপুরে লড়াই করেছিলাম। পার্লামেন্টে আমাকে যখন বহিষ্কৃত করেছিল সবাই আমাকে বলেছিল এবার কৃষ্ণনগরে তুমি হারবে। কিন্তু আমি জিতে এসেছিলাম।

যদি লড়াই করার মানসিকতা থাকে বিজেপির বিরুদ্ধে যদি লড়াই করতে হয় তবে ভয়ের কোন জায়গা নেই। বর্তমান নেতাদের এক হাত নিয়ে মহুয়া বলেন, এখন সব নেতা মানুষের জন্য ভাবছে না সকলে নিজের জন্য ভাবছে। মানুষ তো বিজেপির বিরুদ্ধে ভোট দিয়ে আপনাদের জিতিয়েছে।

কর্মীদের আশ্বস্ত করে মহুয়া বলেন, একদম উদ্বিগ্ন হবেন না। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রয়েছে সাথে আমরা রয়েছি আমরা বিজেপির বিরোধী শক্তি এবং আমরাই বিজেপির বিরোধী শক্তি হিসেবেই থাকবো। তৃণমূল ছেড়ে যে যেতে চায় যাক এটা গণতন্ত্র দরজা খোলা আছে।

ঘোলা জলে মাছ ধরতে এসে এখন কর্মীদের কেউ আমন্ত্রণ জানাবে । আমরা গতদিনে অনেক জয়লাভ করেছি আগামী দিনেও আমরা ঠিক জায়গায় পৌঁছবো। আপনারা ঠিক থাকেন সাথে থাকেন। যে যাবার তারা যাক। দলের শুদ্ধিকরণ হোক এই সাথে একটা জিনিস পরিষ্কার হোক। কে বিজেপি বিরোধী আর কে বিজেমূল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

12 − eight =