আনন্দ মুখোপাধ্যায় :: সংবাদ প্রবাহ :: কলকাতা ডেস্ক :: সোমবার ৮,জুন :: বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’ র গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক সোমবার দিল্লিতে অনুষ্ঠিত হলেও, জোটের অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্য ও কয়েকটি শরিক দলের অনুপস্থিতি ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে ভাঙনের জল্পনা শুরু হয়েছে।
একদিকে কংগ্রেস নেতৃত্ব জোটের ঐক্যের বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করেছে, অন্যদিকে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক দলের অবস্থান জোটের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।
বৈঠকে প্রায় ২৩টি বিরোধী দলের প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে দাবি করেন, বিরোধী শক্তিকে আরও সুসংহত করাই এই বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য। বিজেপির বিরুদ্ধে যৌথ রাজনৈতিক কৌশল, নির্বাচনী সমন্বয় এবং সংসদ ও রাজ্যস্তরে আন্দোলনের রূপরেখা নিয়েও আলোচনা হয়েছে।
তবে বৈঠকের আগে থেকেই জোটের ভিতরে অস্বস্তির ইঙ্গিত স্পষ্ট হয়ে উঠেছিল। দক্ষিণ ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দল ডি এম কে বৈঠকে যোগ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় এবং দলটির পক্ষ থেকে জোট থেকে সরে যাওয়ার কথাও প্রকাশ্যে জানানো হয়। এই ঘটনাকে বিরোধী শিবিরের জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এছাড়াও, আমি আদমি পার্টি এর অনুপস্থিতি এবং বাম দলগুলির একাংশের আপত্তি জোটের অভ্যন্তরীণ সমন্বয় নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষত কংগ্রেস ও সিপিএমের মধ্যে বিভিন্ন রাজ্যে রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব এখনও পুরোপুরি মেটেনি বলে সূত্রের খবর।
অন্যদিকে, মমতা ব্যানার্জি দিল্লিতে পৌঁছে বৈঠকে অংশ নেন এবং বিরোধী ঐক্যের পক্ষে সওয়াল করেন। তৃণমূল কংগ্রেসের উপস্থিতি জোটকে কিছুটা শক্তি জুগিয়েছে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই বৈঠক কার্যত জোটের শক্তি-পরীক্ষা। সাম্প্রতিক কয়েকটি রাজ্যের নির্বাচনে বিরোধী শিবিরের হতাশাজনক ফলাফল, শরিক দলগুলির মধ্যে নেতৃত্বের প্রশ্ন এবং আঞ্চলিক স্বার্থের সংঘাত জোটের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিজেপিও এই পরিস্থিতিকে হাতিয়ার করে বিরোধী জোটকে ‘অস্থায়ী ও স্বার্থনির্ভর সমীকরণ’ বলে কটাক্ষ করেছে। শাসক শিবিরের দাবি, বিরোধী দলগুলির মধ্যে আদর্শগত ঐক্যের অভাব রয়েছে এবং সেই কারণেই জোটের ভিতরে ক্রমশ ফাটল স্পষ্ট হচ্ছে।
দিল্লির এই বৈঠক থেকে বিরোধী জোট ঐক্যের বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করলেও, ডিএমকের দূরত্ব, কয়েকটি দলের অনুপস্থিতি এবং শরিকদের মধ্যে মতবিরোধের কারণে ‘ইন্ডিয়া’ জোটের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এখনই ভাঙন না হলেও জোটের ভিতরে অসন্তোষের প্রতিধ্বনি স্পষ্ট শোনা যাচ্ছে। আগামী কয়েক মাসে শরিক দলগুলির অবস্থানই নির্ধারণ করবে এই বিরোধী মঞ্চ আরও শক্তিশালী হবে, নাকি ভাঙনের পথে এগোবে।

