উত্তরকন্যায় উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক, জিটিএ-তে ২০০ কোটি টাকার ডিপিআর বাতিলের সিদ্ধান্ত

সজল দাশগুপ্ত  :: সংবাদ প্রবাহ :: শিলিগুড়ি :: বুধবার ১৫,জুলাই :: পাহাড়ের প্রশাসনে স্বচ্ছতা ও উন্নয়নের গতি বাড়াতে মঙ্গলবার উত্তরকন্যায় এক উচ্চপর্যায়ের সমন্বয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

রাজ্য সরকারের স্বরাষ্ট্র ও পার্বত্য বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী বিশাল লামার উদ্যোগে আয়োজিত এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন দার্জিলিংয়ের সাংসদ রাজু বিস্তা, জিটিএ এবং জেলা প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকরা। বৈঠকে বর্ষাকালে পাহাড়ে ধস মোকাবিলা, প্রশাসনিক সংস্কার এবং উন্নয়নমূলক প্রকল্প নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়।

বৈঠকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হিসেবে অতীতে প্রণীত প্রায় ২০০ কোটি টাকার ডিটেইলড প্রজেক্ট রিপোর্ট (ডিপিআর) বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রতিমন্ত্রী বিশাল লামা জানান, সাধারণ মানুষের প্রকৃত উপকারে আসে না এবং ঠিকাদার ও কিছু নেতার স্বার্থে তৈরি হওয়া প্রকল্পগুলি বাতিল করে জিটিএ-তে একটি বড়সড় ‘সাফাই অভিযান’ শুরু হয়েছে।

তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক ও মুখ্যমন্ত্রীর কার্যালয়ের চূড়ান্ত অনুমোদনের পর পাহাড়ে বাস্তব ভিত্তিক উন্নয়ন প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়িত হবে। অন্যদিকে, সাংসদ রাজু বিস্তা জানান,

দীর্ঘদিনের বঞ্চনা দূর করতে জিটিএ-র ৩৬০ কোটি টাকার বার্ষিক বাজেটের পাশাপাশি উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তর (এনবিডিডি) থেকেও অতিরিক্ত ২৫০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তুতি চলছে।

পানীয় জল, রাস্তা ও সেতুর মতো মৌলিক পরিকাঠামোর উন্নয়নের মাধ্যমে পাহাড়ের মানুষের সমান অধিকার নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য বলে তিনি জানান। এছাড়াও, জিটিএ-র অধীনে ১ কোটি টাকার বেশি মূল্যের প্রায় ৫০টি প্রকল্পের উপর বিভাগীয় তদন্ত ও অডিট চলছে।

এই প্রকল্পগুলিতে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ভবিষ্যতে তদন্তের দায়িত্ব ভারতের মহালেখা নিরীক্ষক (সিএজি), এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) অথবা সেন্ট্রাল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (সিবিআই)-এর হাতে দেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে সরকার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।

সাংসদ রাজু বিস্তা আশ্বাস দিয়ে বলেন, জিটিএ-র সাংবিধানিক মর্যাদাকে সম্পূর্ণ সম্মান জানিয়েই সরকার সমস্ত সিদ্ধান্ত গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে গ্রহণ করবে এবং পাহাড়ের সার্বিক উন্নয়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

one × 3 =