নিজস্ব সংবাদদাতা :: সংবাদ প্রবাহ :: মালদহ :: শুক্রবার ১৪,আগস্ট :: নির্বাচনের আগে প্রতিশ্রুতি ছিল, রাজ্যের সমস্ত যোগ্য মহিলা পাবেন অন্নপূর্ণা যোজনার মাসিক ৩ হাজার টাকা। কিন্তু ভোট মিটে প্রায় তিন মাস পেরিয়ে গেলেও বহু মহিলার অ্যাকাউন্টে এখনও পৌঁছয়নি সেই টাকা।
ফলে একদিকে বাড়ছে ক্ষোভ, অন্যদিকে সেই ক্ষোভের আঁচ এসে পড়ছে অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের উপর। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা না পাওয়াকে কেন্দ্র করে মহিলাদের মধ্যে অসন্তোষ ক্রমশ তীব্র হচ্ছে। ইতিমধ্যেই একাধিকবার বিডিও অফিসে এসে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন মহিলারা।
এদিকে কারা এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন এবং কারা পাবেন না, তা খতিয়ে দেখতে অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের মাধ্যমে চলছে সার্ভে। আর সেই কাজ করতে গিয়েই সমস্যায় পড়ছেন কর্মীরা।
অভিযোগ, বিভিন্ন অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে গেলে কর্মীদের গালিগালাজ করা হচ্ছে, এমনকি মারধরের হুমকিও দেওয়া হচ্ছে।
পরিস্থিতিতে নিজেদের নিরাপত্তার দাবিতে বিডিও এবং সিডিপিও-র কাছে ডেপুটেশনও দেন অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীরা।
মাঝড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের চ্যাংতোর পিঠাখাকি সেন্টারের অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী কাকলি টিকাদার জানান, অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা না পাওয়ায় গ্রামের বেশ কয়েকজন মহিলা তাঁর উপর ক্ষোভ প্রকাশ করছেন।
তাঁর অভিযোগ, গাড়ি থেকে নামলেই তাঁকে ঘিরে ধরে গালিগালাজ করা হচ্ছে এবং ভয় দেখানো হচ্ছে। কাকলি টিকাদারের আশঙ্কা, চলতি মাসেও যদি মহিলারা অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা না পান, তাহলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হতে পারে এবং অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের উপর শারীরিক হামলার আশঙ্কাও রয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন কর্মীরা। তাঁদের দাবি, সরকারি নির্দেশ মেনে সার্ভের কাজ করতে গিয়ে যাতে তাঁদের নিরাপত্তা নিয়ে কোনও সংশয় তৈরি না হয়, সে বিষয়ে প্রশাসনকে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে।
অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা কবে মিলবে—এই প্রশ্নের উত্তর যেমন খুঁজছেন গ্রামের মহিলারা, তেমনই সেই প্রশ্নের জেরে বাড়তে থাকা চাপ ও আতঙ্ক থেকে মুক্তির পথ খুঁজছেন অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীরাও। ফলে সরকারি প্রকল্পের টাকা ঘিরে তৈরি হয়েছে এক অস্বস্তিকর পরিস্থিতি।

