নিজস্ব সংবাদদাতা :: সংবাদ প্রবাহ :: কলকাতা :: সোমবার ১,জুন :: রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে সোমবার সকালে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক ব্যানার্জির দক্ষিণ কলকাতার বাসভবনের সামনে পৌঁছয় সিআইডির একটি বিশেষ তদন্তকারী দল।
বহুল আলোচিত সই জালিয়াতি মামলার তদন্তের সূত্র ধরেই এই পদক্ষেপ বলে তদন্তকারী মহল সূত্রে খবর। তদন্তকারী সূত্রের দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে প্রকাশ্যে আসা একাধিক নথিতে স্বাক্ষর জালিয়াতির অভিযোগের সূত্র ধরে বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি ও মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
সেই তদন্তের অংশ হিসেবেই সিআইডি আধিকারিকেরা কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি সংগ্রহ এবং কয়েকজন ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলতে অভিষেকের বাসভবনে যান বলে জানা গিয়েছে। যদিও তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, এটি একটি নিয়মিত তদন্ত প্রক্রিয়া ছাড়া অন্য কিছু নয়।
দলের এক শীর্ষ নেতা বলেন, “তদন্তকারী সংস্থা যদি কোনও তথ্য জানতে চায়, আইন মেনেই সহযোগিতা করা হবে। কিন্তু রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিষয়টিকে বড় করে দেখানোর চেষ্টা হচ্ছে।”
অন্যদিকে বিরোধী শিবিরের বক্তব্য, তদন্তের অগ্রগতির নিরিখে এই ঘটনাকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা উচিত। তাঁদের দাবি, তদন্ত নিরপেক্ষভাবে চললে বহু চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসতে পারে।
সকাল গড়াতেই রাজনৈতিক মহলে জল্পনা ছড়ায়—তবে কি আজই গ্রেপ্তার করা হতে পারে অভিষেককে? যদিও সিআইডির পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করা হয়নি।
আইন বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, শুধুমাত্র তদন্তের স্বার্থে কোনও ব্যক্তির বাড়িতে যাওয়া বা জিজ্ঞাসাবাদ করাই গ্রেপ্তারের ইঙ্গিত নয়। গ্রেপ্তারের জন্য তদন্তকারী সংস্থার হাতে পর্যাপ্ত প্রমাণ ও আইনি ভিত্তি থাকা আবশ্যক।
এদিকে অভিষেক ঘনিষ্ঠ সূত্রের দাবি, তিনি তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করতে প্রস্তুত এবং তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ ভিত্তিহীন।
দলের তরফে কর্মী-সমর্থকদের শান্ত থাকার আবেদন জানানো হয়েছে।রাজ্যের রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, লোকসভা নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে এই তদন্ত নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি করতে পারে।
সিআইডির পরবর্তী পদক্ষেপ এবং তদন্তের অগ্রগতির দিকেই এখন নজর রাজ্য রাজনীতির। গ্রেপ্তারি নিয়ে জল্পনা চললেও, সরকারি ভাবে কোনও সিদ্ধান্ত বা ঘোষণা না আসা পর্যন্ত বিষয়টি সম্পূর্ণরূপে অনুমানের পর্যায়েই রয়েছে।

