নিজস্ব সংবাদদাতা :: সংবাদ প্রবাহ :: খড়দহ :: শুক্রবার ১৪,আগস্ট :: আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠল উত্তর ২৪ পরগনার খড়দা। শুক্রবার খড়দা থানার সামনে প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক নির্মল ঘোষকে ঘিরে তীব্র বিক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
তাঁকে পুলিশি নিরাপত্তায় থানার ভিতরে নিয়ে যাওয়ার সময় ক্ষুব্ধ জনতার একাংশ তাঁর দিকে ডিম, জুতো ও নোংরা জল/কাদা ছোড়ে বলে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। তাঁকে শারীরিক ভাবে হেনস্থারও অভিযোগ উঠেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশকে সক্রিয় হতে হয়।
ঘটনার সূত্রপাত আরজি করের ২০২৪ সালের সেই বহুল আলোচিত ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের তদন্তে নতুন করে তৎপরতা ঘিরে।
নিহত তরুণী চিকিৎসকের পরিবারের অভিযোগ, তাঁর মৃত্যুর পর দেহ অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে সৎকার করা হয়েছিল এবং দ্বিতীয় ময়নাতদন্তের সম্ভাবনা কার্যত নষ্ট করার চেষ্টা হয়েছিল। এই অভিযোগের ভিত্তিতে ২০২৬ সালে নতুন করে তদন্তের দরজা খোলে।
পানিহাটির প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক নির্মল ঘোষের নাম এই মামলায় নতুন করে সামনে আসে মূলত মৃত চিকিৎসকের দেহ সৎকারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে। ২০২৪ সালেই তাঁকে সিবিআই জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল। সেই সময় তদন্তকারীদের প্রশ্নের অন্যতম বিষয় ছিল—ঘটনার পর হাসপাতালে তাঁর উপস্থিতি এবং পরবর্তী সময়ে শ্মশানে তাঁর উপস্থিতির কারণ কী।
সিবিআই সূত্রের বক্তব্য অনুযায়ী, মৃতদেহের দ্রুত সৎকারের ব্যবস্থায় নির্মল ঘোষের ভূমিকা ছিল কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় এসেছিল। নির্মল ঘোষ অবশ্য তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে নিজের বক্তব্য দিয়েছেন এবং তদন্তে সহযোগিতা করেছেন।
২০২৬ সালে নিহত চিকিৎসকের পরিবার ফের আদালতের দ্বারস্থ হয়ে নির্মল ঘোষ-সহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলে। পরিবারের দাবি, তাঁদের মেয়ের দেহ দ্রুত সৎকার করা হয়েছিল এবং দ্বিতীয় ময়নাতদন্তের সুযোগ নষ্ট করার চেষ্টা হয়েছিল। পরিবারের আবেদনে নির্মল ঘোষ, সোমনাথ দাস এবং স্থানীয় তৃণমূল নেতা সঞ্জীব মুখোপাধ্যায়ের নাম উঠে আসে।
এরপর তদন্তকারীরা পানিহাটি শ্মশানে গিয়ে সৎকার সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করেন। শ্মশানে কীভাবে মৃতদেহ পৌঁছেছিল, কীভাবে সৎকারের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছিল—এসব বিষয়ও তদন্তের আওতায় আসে। পরবর্তীতে নির্মল ঘোষকে ফের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হয়।
তাঁর বিরুদ্ধে মূলত মৃত চিকিৎসকের দেহ দ্রুত সৎকার, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট বা গোপন করার সম্ভাব্য ভূমিকা এবং বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে এগুলি তদন্তাধীন অভিযোগ—আদালতে প্রমাণিত অপরাধ নয়।
শুক্রবার নির্মল ঘোষকে খড়দা থানায় আনা হলে পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। থানার বাইরে আগে থেকেই জড়ো হয়েছিলেন বিক্ষোভকারীরা। আরজি করের নির্যাতিতার জন্য বিচার এবং ঘটনার সঙ্গে যুক্ত প্রত্যেকের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি ওঠে।
পুলিশের ঘেরাটোপে নির্মল ঘোষকে থানার ভিতরে নিয়ে যাওয়ার সময় বিক্ষোভকারীদের একাংশ প্রবল ক্ষোভ প্রকাশ করেন। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তাঁর দিকে ডিম, জুতো এবং কাদা/নোংরা জল ছোড়া হয়। শারীরিক হেনস্থারও অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ দ্রুত পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করে।
এই ঘটনা দেখিয়ে দিল, দুই বছর পরেও আরজি করের স্মৃতি জনমানসে কতটা তীব্র। তদন্তের নতুন গতি প্রকৃতি সামনে আসতেই ফের রাজপথে প্রতিবাদের ভাষা কঠোর হয়ে উঠেছে।
আরজি কর-কাণ্ডে মূল ধর্ষণ ও খুনের তদন্ত এবং পরবর্তী সময়ে মৃতদেহের সৎকার নিয়ে ওঠা অভিযোগ—দুটি বিষয়কে পৃথকভাবে দেখা হচ্ছে। মৃত চিকিৎসকের পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, সৎকারের তাড়াহুড়ো কেন হয়েছিল, কার নির্দেশে হয়েছিল এবং সেই সময় প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিদের ভূমিকা কী ছিল—এই প্রশ্নগুলিই এখন তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
২০২৪ সালেই নির্মল ঘোষকে সিবিআই প্রায় সাত ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল। সেই সময়ও মৃতদেহ দ্রুত সৎকার এবং তাঁর শ্মশানে উপস্থিতি নিয়ে তাঁকে প্রশ্ন করা হয়েছিল।
আরজি করের তরুণী চিকিৎসকের ধর্ষণ ও হত্যার পর গোটা দেশে যে প্রতিবাদের ঢেউ উঠেছিল, তার অন্যতম প্রধান দাবি ছিল—“ন্যায় চাই”। দুই বছর পর তদন্তের নতুন অধ্যায় সেই ক্ষতকে ফের সামনে নিয়ে এসেছে।

