তোলাবাজি, যৌন হেনস্তা ও অস্ত্র আইনে গ্রেপ্তার টলি পাড়ার ‘দাদা’ স্বরূপ বিশ্বাস ? ১৩ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ

নিজস্ব সংবাদদাতা :: সংবাদ প্রবাহ :: কলকাতা :: শুক্রবার ৫,জুন :: টলিপাড়ার প্রভাবশালী সংগঠক ও রাজনৈতিকভাবে পরিচিত মুখ স্বরূপ বিশ্বাসকে তোলাবাজি, যৌন হেনস্তা এবং অস্ত্র আইনে গ্রেপ্তার করেছে কলকাতা পুলিশ। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে দক্ষিণ কলকাতার একটি আবাসন থেকে তাঁকে আটক করা হয়।

শুক্রবার তাঁকে আদালতে পেশ করা হলে তদন্তের স্বার্থে ১৩ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেন বিচারক। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত কয়েক মাসে স্বরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ জমা পড়ে।অভিযোগকারীদের দাবি, বিভিন্ন অনুষ্ঠান, শুটিং এবং সাংস্কৃতিক কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের কাছ থেকে জোরপূর্বক অর্থ আদায় করা হত।

পাশাপাশি এক মহিলা শিল্পী যৌন হেনস্তার অভিযোগ দায়ের করেন। তদন্তে নেমে পুলিশ আরও জানতে পারে যে অভিযুক্তের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া একটি আগ্নেয়াস্ত্রের বৈধ নথি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

লালবাজারের এক শীর্ষ আধিকারিক জানান, অভিযোগগুলির গুরুত্ব বিবেচনা করেই বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকজন সাক্ষীর বয়ান রেকর্ড করা হয়েছে এবং আর্থিক লেনদেনের নথিপত্র খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

শুক্রবার আদালতে শুনানির সময় সরকারি কৌঁসুলি দাবি করেন, অভিযুক্তের প্রভাব বিস্তৃত হওয়ায় তিনি জামিন পেলে সাক্ষীদের প্রভাবিত করতে পারেন। পাশাপাশি অভিযোগের সঙ্গে জড়িত আরও কয়েকজনের ভূমিকা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। সেই কারণেই দীর্ঘ পুলিশ হেফাজতের আবেদন করা হয়।

অন্যদিকে, স্বরূপ বিশ্বাসের আইনজীবীর দাবি, তাঁর মক্কেলের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করা হবে বলেও আদালতে জানানো হয়। গ্রেপ্তারের খবরে টলিপাড়ায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

বিভিন্ন শিল্পী সংগঠন ও সাংস্কৃতিক মহলের প্রতিনিধিরা ঘটনার দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। অনেকেই মনে করছেন, এই মামলা আগামী দিনে রাজ্যের সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক মহলে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

পুলিশ সূত্রের খবর, আগামী কয়েক দিনে অভিযুক্তকে নিয়ে একাধিক জায়গায় তল্লাশি চালানো হতে পারে। আর্থিক লেনদেন, মোবাইল ফোনের তথ্য এবং সংশ্লিষ্ট নথি খতিয়ে দেখে তদন্তকারীরা অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের চেষ্টা করছেন।

বর্তমানে স্বরূপ বিশ্বাস পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন। তদন্তের অগ্রগতির দিকে নজর রয়েছে রাজনৈতিক মহল থেকে শুরু করে টলিউডের বিভিন্ন গোষ্ঠীর ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

seven + seven =