প্রথম কিস্তির পর আর ঢোকেনি বাড়ির টাকা !! অর্ধনির্মিত বাড়িতেই ত্রিপল খাটিয়ে ভিক্ষা করে অন্ধদের দিন-যাপন প্রতিবন্ধী দম্পতির

নিজস্ব সংবাদদাতা :: সংবাদ প্রবাহ :: জামুড়িয়া :: বুধবার ২২,জুলাই :: সন্ধ্যা ব্যানার্জি ও সুব্রত ব্যানার্জি, উভয়ের সম্পর্ক স্বামী-স্ত্রী। দুজনেই প্রতিবন্ধী। দীর্ঘদিন ধরেই ভাঙাচোরা একটি বাড়িতেই দিন যাপন করতো তারা। তাদের এই দুর্দশার বিষয়টি চিন্তাভাবনা করে সরকারি আবাসন প্রকল্পে তাদের নাম মঞ্জুর করানো হয়।

টাকাও হাতে আসে। তারপরও মেটেনি ভোগান্তি। এখনো চরম আতঙ্ক ও দুর্দশার মধ্যে দিন কাটাতে হচ্ছে প্রতিবন্ধী দম্পতিকে। ঘটনাটি পশ্চিম বর্ধমান জেলার জামুড়িয়া বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত চিঁচুুড়িয়া অঞ্চলের চিঁচুুড়িয়া নিচুপাড়া এলাকার।

জামুড়িয়ার চিচুড়িয়া গ্রামের নিচুপাড়ার বাসিন্দা বছর ৫৭-র সন্ধ্যা ব্যানার্জী এবং তাঁর ৬৭ বছরের স্বামী সুব্রত ব্যানার্জী।

উভয়েই বিশেষভাবে সক্ষম। বয়সের ভার এবং শারীরিক অসুস্থতার কারণে দু’জনেরই কাজ করার ক্ষমতা নেই।কোনরকমে সংসার চলে। দীর্ঘদিন ধরেই ভাঙাচোরা বাড়িতেই বসবাস করছিল এই দম্পতি।

স্থানীয়দের দাবি, তাঁদের দুর্দশার কথা বিবেচনা করে সরকারি আবাসন প্রকল্পের অধীনে একটি বাড়ি মঞ্জুর করা হয়েছিল। প্রথম কিস্তির ৬০ হাজার টাকাও তাঁদের অ্যাকাউন্টে জমা পড়ে। সেই টাকা দিয়ে পুরনো ভাঙাচোরা ঘর ভেঙে নতুন বাড়ির কাজ শুরু করেন তাঁরা।

কিন্তু এরপরই থমকে যায় নির্মাণকাজ। অভিযোগ, প্রথম কিস্তির পর আর কোনো টাকা মেলেনি। ফলে অর্ধনির্মিত বাড়ির কাজ বন্ধ হয়ে পড়ে রয়েছে। এখন এই বর্ষায় কোন রকম কোন উপায় না পেয়ে অর্ধনির্মিত বাড়িতেই বাঁশ আর ত্রিপল টাঙিয়ে অস্থায়ী আশ্রয়ে দিন কাটাতে বাধ্য হচ্ছেন এই বৃদ্ধ দম্পতি।

তবে তাদের দুর্দশা এখানেই থেমে নেই। জানা যায়,সন্ধ্যা দেবী প্রতিবন্ধী ভাতা এবং সুব্রতবাবু বার্ধক্য ভাতা পেতেন। কিন্তু গত দুই থেকে তিন মাস ধরে সেই ভাতাও বন্ধ রয়েছে বলে অভিযোগ। কোনো রোজগার না থাকায় প্রতিবেশীদের সাহায্য এবং ভিক্ষার ওপর নির্ভর করেই চলছে তাঁদের জীবন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

twenty − 11 =