নিজস্ব সংবাদদাতা :: সংবাদ প্রবাহ :: ফালাকাটা :: বুধবার ১৬,সেপ্টেম্বর :: দীর্ঘ আট বছরেও ফালাকাটা-সলসলাবাড়ি ৪১ কিমি রাস্তায় ফোর লেন বা মহাসড়কের কাজ শেষ হয়নি। অথচ অসমে অনেক পরে এই কাজ শুরু হয়। সেখানে কাজও অনেকটা এগিয়েছে।
কিন্তু ফালাকাটায় কেন এই রাস্তার কাজে এত সময় লাগছে? সেই উত্তর খুঁজে পেয়েছেন বিজেপির আলিপুরদুয়ারের বিধায়ক পরিতোষ দাস। সম্প্রতি শালকুমারহাটে দলের তপশিলি মোর্চার এক সম্মেলনে এসে বিধায়ক প্রকাশ্যে এই মহাসড়কের কাজে যে কোটি কোটি টাকার দুর্নীতি হয়েছে তা তুলে ধরেন।
শাসকদলের বিধায়কের এই বক্তব্যে আলিপুরদুয়ার জেলা প্রশাসন ও জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের ভেতরে ব্যাপক হইচই শুরু হয়েছে। কারণ,এই দুর্নীতির সঠিক তদন্ত হলে জেলা ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তরের একাধিক আধিকারিক,কর্মী ও এনএইচএআই-র আধিকারিক কর্মীরা ফেঁসে যাবেন।
আবার টাকা দিয়ে সেই কেস ধামাচাপাও দিয়েছে। এখন ঘর বাবদ বড়সড় দুর্নীতিতে ওই দালালের নাম জড়িয়েছে বলে অভিযোগ।
ভাইরাল ভিডিওতে বিধায়ক পরিতোষ জানান,”ফোর লেনের কাজের এত বিলম্ভ কেন,অন্যান্য রাজ্যে যখন দু তিন বছরের মধ্যে কাজ শেষ হয়ে যায়,আমাদের অনেক পরে আসামে ফোর লেনের কাজ শুরু হয়েছিল,সেটা হয়ে গেছে।
কিন্তু আমরা আজকে অবধি ফোর লেনের রাস্তা পাইনি। তার বড় কারণ হল ন্যাশনাল হাই অথরিটি থেকে আরম্ভ করে রাজ্য সরকারের ভূমি সংস্কার দপ্তরের আধিকারিকরা ভয়ংকর দুর্নীতির মধ্যে যুক্ত হয়ে গেছে।আপনারা জেনে অবাক হবেন,গত দশ দিন আগে আমি একটা শিট পেয়েছিলাম।
আমি সব নথিপত্র সেদিন ধরতে পেলাম,সেদিনই আমি ডিএম ম্যাডামকে সব জানিয়ে দিয়েছি। ন্যাশনাল হাইওয়ে অথরিটির যারা আছেন তাদের যেন বিভাগীয় তদন্ত হয়,পানিশমেন্ট হয় সেজন্য আমি চিঠি লিখছি।বিগত সরকারের আমলে দুনীতি কীভাবে হয়েছে তা ভাবাই যাচ্ছে না।
সাধারণ মানুষ কিছু বোঝেন না,বাড়ি,জায়গার ক্ষতিপূরণ বাবদ সাত লাখ টাকা দিয়ে দেওয়া হয়েছে,কিন্তু আপনার বাড়ির স্ট্রাকচারের টাকা অন্য কাউকে দেখিয়ে দিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এরকম প্রচুর দেওয়া হয়েছে। কিন্তু আমার কাছে এখন কিছু তথ্য আসায় আমি চেপে ধরেছি।
আগামী দিনে আমি মুখ্যমন্ত্রীকে দরবার করব,যাতে ফোর লেন নিয়ে সিআইডি তদন্ত করা হয়। আমার মনে হচ্ছে এরকম বহু গরিব মানুষকে বঞ্চিত করা হয়েছে।
যাতে টাকা দিয়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয় যায়। টাকার লোভে বিজেপির নেতারাও কেউ কেউ ওই দালালকে আশ্বাস দিচ্ছেন,সব ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু এখনও পর্যন্ত বিজেপির বিধায়ক পরিতোষ দাস নিজের অবস্থান ঠিক রেখেছেন৷
প্রকাশ্যে বিধায়ক যেভাবে বিষয়টি বলেছেন,তাতে এটাও মনে হচ্ছে যে বিধায়ক এখনও অবধি দালালের কাছে নতিস্বীকার করেননি ৷ তাই তদন্ত এখন কোন পথে এগোয়,সেটাই দেখার।

