বড়ঞা পঞ্চায়েত সমিতিতে কংগ্রেসের নেতৃত্বে বোর্ড গঠন, নতুন সভাপতি নাজমা খাতুন

নিজস্ব সংবাদদাতা :: সংবাদ প্রবাহ :: বড়ঞা :: মঙ্গলবার ১৮,আগস্ট :: মুর্শিদাবাদ জেলার বড়ঞা ব্লক পঞ্চায়েত সমিতিতে রাজনৈতিক পালাবদলের মধ্য দিয়ে কংগ্রেসের নেতৃত্বে নতুন বোর্ড গঠিত হল। সেই বোর্ডের সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হলেন নাজমা খাতুন।

সভাপতির বিরুদ্ধে আনা অনাস্থা প্রস্তাব সফল হওয়ার পর সোমবার নতুন সভাপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। ৩৮ সদস্যের বড়ঞা পঞ্চায়েত সমিতিতে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে রাজনৈতিক টানাপোড়েন চলছিল।

কংগ্রেসের দাবি, তৃণমূল কংগ্রেসের ১৭ জন পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য কংগ্রেসের নেতৃত্বে নতুন বোর্ড গঠনের পক্ষে সমর্থন জানান।

এর ফলে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের ৮ জন সদস্য এবং তৃণমূল কংগ্রেসের ১৭ জন সদস্য মিলিয়ে মোট ২৫ জনের সমর্থনে কংগ্রেসের নেতৃত্বে নতুন বোর্ড গঠন করা হয়। এরপর সভাপতির বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনা হয় এবং সেই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর নতুন সভাপতি নির্বাচনের কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়।

কংগ্রেসের দাবি অনুযায়ী, ২৫ জন সদস্যের সমর্থনে নাজমা খাতুন বড়ঞা পঞ্চায়েত সমিতির নতুন সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হন। প্রসঙ্গত, ৩৮ সদস্যের ওই পঞ্চায়েত সমিতিতে সভাপতি নির্বাচনের দিন ২৫ জন সদস্য উপস্থিত ছিলেন। অনুপস্থিত ছিলেন বিজেপির ৭ জন এবং তৃণমূল কংগ্রেসের ৬ জন সদস্য।

এছাড়াও পঞ্চায়েত সমিতির বিদায়ী সভাপতি সুলতানা খাতুন সভায় উপস্থিত ছিলেন না। অনুপস্থিত ছিলেন বিজেপির সহ-সভাপতি সুজিত পাত্রও। নতুন সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পর কংগ্রেস নেতৃত্ব জানিয়েছে, এলাকার সার্বিক উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করা হবে।

রাস্তাঘাট সংস্কার, পানীয় জল, নিকাশি ব্যবস্থা, স্বাস্থ্য পরিষেবা এবং বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের ওপর জোর দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।

কংগ্রেস নেতৃত্বের দাবি, দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে সাধারণ মানুষের উন্নয়ন ও পরিষেবা নিশ্চিত করাই তাঁদের প্রধান লক্ষ্য। নতুন বোর্ড এবং নতুন সভাপতির নেতৃত্বে পঞ্চায়েত সমিতির কাজ আরও গতিশীল হবে বলেও আশা প্রকাশ করা হয়েছে।

রাজনৈতিক মহলের মতে, ৮ জন কংগ্রেস সদস্য ও ১৭ জন তৃণমূল সদস্যের সমর্থনে কংগ্রেসের নেতৃত্বে বোর্ড গঠন এবং নাজমা খাতুনের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার ঘটনা বড়ঞা ব্লকের পঞ্চায়েত রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়।

অনাস্থা থেকে শুরু করে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন নতুন বোর্ড গঠন পর্যন্ত গোটা ঘটনাপ্রবাহ এখন জেলার রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

4 × 1 =