রাজা ভঞ্জ চৌধুরী :: সংবাদ প্রবাহ :: বসিরহাট :: বৃহস্পতিবার ২৫,জুন :: সরকারি পরিষেবা পেতে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ নতুন নয়, কিন্তু বসিরহাট প্রধান ডাকঘরের সামনে যে চিত্র প্রতিদিন ধরা পড়ছে, তা কার্যত এক মানবিক সঙ্কটের রূপ নিয়েছে।
আধার কার্ড সংক্রান্ত পরিষেবা পাওয়ার আশায় শয়ে শয়ে মানুষ দিনের পর দিন অপেক্ষা করছেন, কেউ বা রাত কাটাচ্ছেন খোলা আকাশের নীচে। অথচ গোটা ডাকঘরে কার্যত একটি মাত্র কাউন্টার থেকে কাজ চলছে এবং দিনে মাত্র চল্লিশটি আবেদন গ্রহণ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ।
ফলে দূরদূরান্ত থেকে আসা মানুষদের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে। উত্তর ২৪ পরগনার সীমান্তবর্তী যোগেশগঞ্জ, কালীতলা, সন্দেশখালি সংলগ্ন বিভিন্ন প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে বহু মানুষ গভীর রাতে এসে লাইনে দাঁড়াচ্ছেন। অনেকের সঙ্গে রয়েছেন বৃদ্ধ বাবা-মা, মহিলা ও ছোট শিশুরাও।
ভোরের আলো ফোটার আগেই ডাকঘরের সামনে দীর্ঘ সারি তৈরি হলেও অধিকাংশ আবেদনকারী শেষ পর্যন্ত পরিষেবা না পেয়ে হতাশ হয়ে বাড়ি ফিরছেন।
অভিযোগ, আধার সংশোধন, মোবাইল নম্বর সংযুক্তিকরণ, বায়োমেট্রিক আপডেট কিংবা ব্যাংক অ্যাকাউন্টের সঙ্গে আধার লিঙ্ক করার মতো জরুরি কাজের জন্য মানুষকে দিনের পর দিন ঘুরতে হচ্ছে।
বসিরহাটে কেবল আধারের জন্য :: চিত্র রাজা ভঞ্জ চৌধুরী
অনেকেই জানিয়েছেন, একাধিকবার এসে ফিরতে হয়েছে। দিনমজুর ও নিম্নআয়ের পরিবারের সদস্যদের ক্ষেত্রে এর ফলে আর্থিক ক্ষতিও হচ্ছে।
ডাকঘরের সামনে অপেক্ষারত এক বাসিন্দার কথায়, “রাত দু’টোর সময় বাড়ি থেকে বেরিয়েছি। সকাল থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। কিন্তু জানানো হলো আজ আর সুযোগ হবে না। আবার অন্যদিন আসতে হবে।”
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হল, দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষের জন্য পর্যাপ্ত পানীয় জল, বসার ব্যবস্থা বা শৌচাগারের সুবিধাও নেই বলে অভিযোগ। বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিদের দুর্ভোগ আরও বেশি। অনেকেই বাধ্য হয়ে মাটিতেই বসে বা শুয়ে রাত কাটাচ্ছেন।
স্থানীয়দের প্রশ্ন, যখন আধার-সংক্রান্ত পরিষেবার চাহিদা এত বেশি, তখন কেন অতিরিক্ত কাউন্টার চালু করা হচ্ছে না? কেন বাড়ানো হচ্ছে না কর্মীর সংখ্যা? প্রশাসনের তরফে এখনও পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনও উদ্যোগ না থাকায় মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে।
নাগরিক মহলের একাংশের মতে, ডিজিটাল পরিষেবার যুগে একটি অত্যাবশ্যক সরকারি পরিষেবা পাওয়ার জন্য সাধারণ মানুষকে যদি রাত জেগে মাটিতে বসে অপেক্ষা করতে হয়, তবে তা প্রশাসনিক ব্যর্থতারই প্রতিফলন।
একজন মা জানালে তার বাচ্চার দশ বছর বয়স। বায়োমেট্রিক করতে হবে । ব্যাংকে একাউন্ট- হবে সেই জন্য একদিন টাউন হোটেলে ছিলাম পরের দিন টাকা পয়সা ফুরিয়ে গেছে, রাস্তায় বসে আছি ।
অনেকে ৩০ কিলোমিটার দূরে গ্রাম গঞ্জ থেকে ছোট বাচ্চাকে নিয়ে ১১ বছর ১০ বছরের বাচ্চাকে নিয়ে সারা রাত মশার কামড়ে রাস্তার উপরে বসে আছেন দিনের পর দিন
দ্রুত অতিরিক্ত কাউন্টার চালু করা, কর্মী নিয়োগ বৃদ্ধি এবং প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের জন্য বিশেষ শিবির আয়োজনের দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে। বসিরহাট ডাকঘরের সামনে প্রতিদিনের এই দৃশ্য এখন প্রশ্ন তুলে দিচ্ছে সরকারি পরিষেবার বাস্তব চিত্র নিয়ে। মানুষের একটাই দাবি—অপেক্ষা নয়, দ্রুত সমাধান চাই।

