বাঁশবেরিয়া থেকে গ্রেপ্তার কুখ্যাত তোলাবাজ সোনা শীল

জাকির আলী :: সংবাদ প্রবাহ :: চুঁচুড়া :: মঙ্গলবার ৭,জুলাই :: ০৬/০৭.০৭.২০২৬ তারিখের রাতে, হুগলির চুঁচুড়া থানার অন্তর্গত বাঁশবেড়িয়া পৌরসভার মিলনপল্লী এলাকার বাসিন্দা (প্রয়াত কার্তিক চন্দ্র শীলের পুত্র) সত্যরঞ্জন শীল ওরফে সোনা শীলকে বাগুইআটি থানা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

চুঁচুড়া থানার মামলা নং ২১৬/২০২৬ (তারিখ: ০৯.০৬.২০২৬)-এর প্রেক্ষিতে এই গ্রেপ্তার করা হয়; মামলাটি বিএনএস (BNS)-এর ধারা ৩১৮(৪)/৩১৬(২)/৩৩৮/৩৩৬(৩)/৩৪০(২)/৩২৯(৩)/৩২৪(৪)/৩৫১(২)/৩(৫) এবং আর্মস অ্যাক্ট-এর ধারা ২৫/২৭-এর অধীনে নথিভুক্ত।

এ এক নতুন রকম তোলাবাজির কাহিনী। তিনি তৃনমূল থেকে বিতারিত  সত্য রঞ্জন শীল ওরফে সোনা শীল। চাকরি করেন আরপিএফ কনস্টেবল পদে। থাকেন বাঁশবেড়িয়ার মিলনপল্লীতে। বহু কলঙ্কের নায়ক এই সোনা শীল বর্তমানে নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন তোলাবাজির কাজে

সূত্রের খবর, সল্টলেকের ব্যবসায়ী তথা সজ্জন মধুসূদন চক্রবর্তী আর্ত-পীড়িত মানুষের সেবায় বিধাননগর নর্থ সোসাইটি ফর সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার নামে একটি সমাজসেবী সংস্থা চালান। এছাড়াও তিনি ইন্টারন্যাশনাল হিউমান রাইট অর্গানাইজেশন নামে আন্তর্জাতিক স্তরের মানবাধিকার সংক্রান্ত একটি সংস্থা চালান।

এহেন মধুসূদন চক্রবর্তীর কাছে দিনের পর দিন সমাজবিরোধী দুষ্কৃতী পাঠিয়ে সোনা শীল ১ কোটি টাকা তোলা চান বলে অভিযোগ। মধুসূদনবাবু বলেন, ‘গত ১২ এপ্রিল সকাল সাড়ে ১১টা নাগাদ গুন্ডার মতো দেখতে অপরিচিত ৭-৮ জন লোক আমার সিএফ ব্লকের অফিসে আসে এবং আমাকে যারপরনাই শাসিয়ে আমার কাছে ১ কোটি টাকা দাবি করে।

আমি তাদের দাবি মেটাতে পারিনি বলে বহু লোক মারফত নানাভাবে তারা আমাকে শাসাতে থাকে। এমনকি প্রাণহানির হুমকিও দেয়। তারা বলে এই রাজ্যে এমন কোনো লোক নেই যে আমাদের সোনাস্যারের কিছু করতে পারে।’

প্রসঙ্গত, সোনা শীলের লোকেরা বলে বেড়ায় যে এ রাজ্যের প্রশাসন, পুলিশ, মাফিয়া সবই তার হাতের মুঠোয়। উল্লেখ্য, এই ঘটনা সবিস্তারে জানিয়ে মধুসূদনবাবু ১৩ এপ্রিল বিধাননগর উত্তর থানায় একটি অভিযোগ করেন।

তারপর ১৫ এপ্রিল তিনি বিধাননগর কমিশনারেটের নগরপালকেও বিষয়টি ই-মেল করে জানান। তারপর একপ্রকার বাধ্য হয়েই মহামান্য কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন। এবং তারপরই একটি এফআইআর দায়ের করা হয়।

ধৃত ব্যক্তিকে আজ হুগলির মাননীয় চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট-এর আদালতে হাজির করা হচ্ছে এবং তাঁর ১০ দিনের পুলিশি রিমান্ডের আবেদন জানানো হচ্ছে।

তিনি এফআইআর (FIR)-এ নাম থাকা একজন অভিযুক্ত এবং অভিযোগ রয়েছে যে, তিনি সম্পত্তি জবরদখলকারী একটি চক্র পরিচালনা করতেন। এই চক্রটি হুগলির ব্যান্ডেলে হোটেল, ইটভাটা এবং ইটভাটা-সংলগ্ন জমি বেআইনিভাবে দখলের কাজে জড়িত ছিল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

6 − 5 =