সুদেষ্ণা মন্ডল :: সংবাদ প্রবাহ :: বারুইপুর :: বুধবার ১৬,সেপ্টেম্বর :: টাকার বান্ডিল নিয়ে ব্যাঙ্কে হাজির এক ব্যক্তি। উদ্দেশ্য ছিল টাকা জমা দেওয়া। কিন্তু কাউন্টারে টাকা যাচাইয়ের সময়ই তৈরি হল সন্দেহ। একের পর এক নোট ঘিরে প্রশ্ন। খবর গেল পুলিশের কাছে। ব্যাঙ্কে পৌঁছে নোটগুলি উদ্ধার করল পুলিশ।
১০০ টাকা মূল্যের মোট ১২টি সন্দেহভাজন জাল নোট-সহ গ্রেফতার করা হল এক ব্যক্তিকে। বারুইপুরের হরিহরপুরে এই ঘটনাকে ঘিরে শুরু হয়েছে তদন্ত।
ঘটনার সূত্রপাত মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন দুপুর ২টো ১৫ মিনিট নাগাদ হরিহরপুরের সেন্ট্রাল ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার শাখা থেকে বারুইপুর থানায় খবর আসে।
শাখা ম্যানেজার সপ্তর্ষি দাস পুলিশকে জানান, এক ব্যক্তির কাছে সন্দেহভাজন জাল ভারতীয় নোট পাওয়া গিয়েছে। ব্যাঙ্ক থেকে খবর পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে পৌঁছয় বারুইপুর থানার পুলিশ। সাব-ইন্সপেক্টর অর্ঘ্য মণ্ডলের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ব্যাঙ্কের শাখায় গিয়ে বিষয়টি খতিয়ে দেখে।
এরপর অভিযুক্ত ব্যক্তির কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় ১০০ টাকা মূল্যের মোট ১২টি সন্দেহভাজন নোট। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বাজেয়াপ্ত নোটগুলির মোট মূল্য ১২০০ টাকা। এই ঘটনায় শুভেন্দু চট্টোপাধ্যায় নামে ৪৪ বছর বয়সি এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
সেই অভিযোগের ভিত্তিতে বারুইপুর থানায় নির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজুর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এখন তদন্তকারীদের সামনে একাধিক প্রশ্ন। ওই সন্দেহভাজন নোটগুলি কোথা থেকে এল? ধৃত ব্যক্তি নিজে সেগুলি সংগ্রহ করেছিলেন, নাকি অন্য কারও মাধ্যমে তাঁর হাতে পৌঁছেছিল?
নোটগুলি কি কোনও লেনদেনে ব্যবহারের চেষ্টা করা হচ্ছিল? নাকি এর পিছনে রয়েছে আরও বড় কোনও যোগসূত্র? এই সমস্ত বিষয় খতিয়ে দেখছে পুলিশ। পাশাপাশি, ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না, সেই বিষয়টিও তদন্তের আওতায় রাখা হয়েছে।
যদিও এই মুহূর্তে পুলিশের তরফে কোনও চক্রের জড়িত থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়নি। তদন্তের অগ্রগতি এবং পরীক্ষার রিপোর্টের ভিত্তিতেই পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে।ব্যাঙ্কের মতো আর্থিক প্রতিষ্ঠানে নোট যাচাইয়ের সময় সন্দেহভাজন জাল নোট ধরা পড়ার ঘটনা নতুন করে সতর্কতার বিষয়টি সামনে আনছে।
বিশেষ করে নগদ লেনদেনের ক্ষেত্রে নোটের বৈধতা যাচাই কতটা গুরুত্বপূর্ণ, এই ঘটনায় সেই প্রশ্নও উঠছে। পুলিশ ইতিমধ্যেই উদ্ধার হওয়া নোটগুলি বাজেয়াপ্ত করেছে। ধৃত ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করে নোটগুলির উৎস সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চলছে।
পাশাপাশি, অভিযোগের ভিত্তিতে আইনি প্রক্রিয়াও এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। অর্থাৎ, ব্যাঙ্কে টাকা জমা দেওয়ার একটি সাধারণ ঘটনা থেকেই শুরু হয় সন্দেহ। সেই সন্দেহের সূত্র ধরে উদ্ধার হয় ১২টি সন্দেহভাজন ১০০ টাকার নোট। গ্রেফতার হন এক ব্যক্তি।
এখন তদন্তের অপেক্ষা—নোটগুলির প্রকৃত পরিচয় কী, সেগুলি কোথা থেকে এল এবং এই ঘটনার নেপথ্যে আর কোনও যোগসূত্র রয়েছে কি না।

