নিজস্ব সংবাদদদাতা :: সংবাদ প্রবাহ :: বালুরঘাট :: বুধবার ৫,আগস্ট :: চার লক্ষ টাকার রাস্তার কাজ। অথচ সেই কাজের বরাত পেতেই নাকি গুনতে হয়েছে এক লক্ষ কুড়ি হাজার টাকা! কাটমানি আদায়ের এমনই বিস্ফোরক অভিযোগকে ঘিরে রীতিমতো তোলপাড় বালুরঘাট পুরসভা।
অভিযোগের তির পুরসভার অস্থায়ী সাইট ইঞ্জিনিয়ার ভানুশঙ্কর রায়ের বিরুদ্ধে। ঠিকাদারের দাবি, পুরসভার স্থায়ী সহকারী ইঞ্জিনিয়ার তথা নিজের কাকা মলিন রায়ের নাম ব্যবহার করে ঠিকাদারি কাগজ ব্ল্যাকলিস্ট করে দেওয়ার ভয় দেখিয়েই ওই টাকা আদায় করা হয়। ঘটনার লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছে প্রশাসনের কাছেও।
অভিযোগকারী সম্রাট মহন্ত ওরফে বিলে, বালুরঘাট শহরের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মঙ্গলপুর এলাকার বাসিন্দা। তাঁর দাবি, প্রায় পাঁচ মাস আগে ২৩ নম্বর ওয়ার্ডে চার লক্ষ টাকা বরাদ্দের একটি ঢালাই রাস্তার কাজের বরাত পান তিনি। সেই সময় থেকেই ভানুশঙ্কর রায় বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করতে থাকেন।
অভিযোগ, কাজ চালিয়ে যেতে হলে এবং ঠিকাদারি কাগজ ব্ল্যাকলিস্ট হওয়া এড়াতে এক লক্ষ কুড়ি হাজার টাকা দিতে হবে বলে জানানো হয়। শেষ পর্যন্ত চেক, ফোন-পে এবং নগদ তিন মাধ্যমেই ওই টাকা দিতে বাধ্য হন বলে দাবি ঠিকাদারের।
সম্রাটের অভিযোগ, টাকা দেওয়ার পরেও রাস্তার কাজ শুরু হয়নি। উল্টে টাকা ফেরত চাইলে বারবার আশ্বাস মিললেও বাস্তবে কিছুই ফেরত পাননি। জুন মাসে একটি চেক দেওয়া হলেও সেটিও বাউন্স করে বলে অভিযোগ। ইতিমধ্যেই চেক বাউন্স মামলার আইনি প্রক্রিয়া শুরু করেছেন তিনি।
পাশাপাশি ভানুশঙ্কর রায় ও বুবাই মহন্ত নামে দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে কাটমানি আদায়ের অভিযোগ জানিয়ে বালুরঘাট থানায় লিখিত অভিযোগও দায়ের করেছেন তিনি।
সম্রাট মহন্তের দাবি, পুরো ঘটনার ভিডিও এবং অডিও প্রমাণ তাঁর কাছে রয়েছে। তাঁর কথায়, কাজ পাইয়ে দেওয়ার নাম করে ভয় দেখিয়ে টাকা নেওয়া হয়েছে। কাজও পাইনি, টাকাও ফেরত পাইনি। তাই আইনের দ্বারস্থ হয়েছি।

