নিজস্ব সংবাদদাতা :: সংবাদ প্রবাহ :: রামপুরহাট :: বৃহস্পতিবার ১০,সেপ্টেম্বর :: বীরভূমের রামপুরহাট শহরে চিকিৎসা পরিষেবা ঘিরে ফের সামনে এল অনিয়মের অভিযোগ। এবার এক চিকিৎসকের ডিগ্রি ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে।
ঘটনাকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়াতেই সংশ্লিষ্ট সুফি ডায়াগনস্টিক সেন্টার আপাতত বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে স্বাস্থ্য দফতর। শুরু হয়েছে তদন্ত।
অভিযোগ, ওই ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরিষেবা দেওয়া ডক্টর এমডি সুজাউর রহমান তাঁর প্রেসক্রিপশনে নামের সঙ্গে MBBS, MD, DM, “Doctorate in Cardiology” এবং “Heart Specialist” সহ একাধিক ডিগ্রির উল্লেখ করেছেন।
পাশাপাশি একটি চিকিৎসক রেজিস্ট্রেশন নম্বরও দেওয়া রয়েছে। তবে অভিযোগ উঠেছে, সেই রেজিস্ট্রেশন নম্বর পশ্চিমবঙ্গ মেডিক্যাল কাউন্সিল (WBMC)-এর নথির সঙ্গে মিলছে না।
WBMC-এর ওয়েবসাইটে যে তথ্য পাওয়া যাচ্ছে, সেখানে চিকিৎসকের নাম ‘এ এইচ এমডি সুজাউর রহমান’ এবং তাঁর যোগ্যতা হিসেবে শুধুমাত্র কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমবিবিএস ডিগ্রির উল্লেখ রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে রামপুরহাট ও আশপাশের এলাকায় বিভিন্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টারে তিনি হৃদরোগ সংক্রান্ত চিকিৎসা ও ইকোকার্ডিওগ্রাফি করে আসছেন। ফলে তাঁর প্রকৃত যোগ্যতা ও বৈধ রেজিস্ট্রেশন নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই উদ্বেগ বাড়ছে এলাকাবাসীর মধ্যে।
সংবাদমাধ্যমের তরফে বিষয়টি নিয়ে ওই চিকিৎসকের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি কী জবাব দিয়েছেন, তা নিয়েও জল্পনা তৈরি হয়েছে।
এদিকে রামপুরহাটের মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডা. শোভন দে জানিয়েছেন, অভিযোগ পাওয়ার পরই তদন্ত শুরু হয়েছে। আপাতত সংশ্লিষ্ট ডায়াগনস্টিক সেন্টার বন্ধ রাখতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং কর্তৃপক্ষকে সমস্ত নথিপত্র নিয়ে ডাকা হয়েছে। নথি যাচাইয়ের পরই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
স্বাস্থ্য দফতরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কোনও হাসপাতাল, ক্লিনিক, ল্যাবরেটরি বা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অনিয়ম নজরে এলে সাধারণ মানুষ রামপুরহাট মহকুমা স্বাস্থ্য দফতরে অভিযোগ জানাতে পারেন। পরিচয় গোপন রেখেও অভিযোগ বা ই-মেইলের মাধ্যমে বিষয়টি জানানো সম্ভব।
এদিনই নলহাটি শহরে ‘মেডিকো ল্যাব’ নামে একটি ল্যাবরেটরি প্রয়োজনীয় নথিপত্র না থাকায় বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলেও জানিয়েছেন স্বাস্থ্য আধিকারিক।
অন্যদিকে এলাকাবাসীদের দাবি, শুধু একটি প্রতিষ্ঠান নয়, গোটা রামপুরহাট মহকুমা জুড়েই বিভিন্ন ল্যাবরেটরি, এক্স-রে, ইউএসজি, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে চিকিৎসা পরিষেবা নিয়ে একাধিক অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে।
কোথাও চিকিৎসকের যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন, আবার কোথাও চিকিৎসকের উপস্থিতি ছাড়াই পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালানোর অভিযোগ উঠছে।

