শপথ মঞ্চে মাখনলাল সরকারকে বুকে জড়িয়ে ধরলেন প্রধানমন্ত্রী কেন ? কে এই শিলিগুড়ির মাখনলাল সরকার?

সুদেষ্ণা মন্ডল  :: সংবাদ প্রবাহ :: কলকাতা :: শনিবার ৯,মে :: ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে বাংলার নতুন সরকারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান ঘিরে যখন রাজনৈতিক উত্তেজনা তুঙ্গে, ঠিক তখনই মঞ্চে ধরা পড়ল এক আবেগঘন মুহূর্ত।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী হঠাৎই এগিয়ে গিয়ে জড়িয়ে ধরলেন শিলিগুড়ির প্রবীণ বিজেপি নেতা মাখন লাল সরকারকে ।

শুধু তাই নয়, তাঁর পায়ে হাত দিয়ে প্রণামও করতে দেখা যায় প্রধানমন্ত্রীকে। মুহূর্তের মধ্যেই সেই দৃশ্য ছড়িয়ে পড়ে রাজনৈতিক মহলে এবং সামাজিক মাধ্যমে।

রাজনৈতিক মহলের মতে, এটি শুধুমাত্র একজন প্রবীণ নেতাকে সম্মান জানানো নয়, বরং বাংলায় জনসংঘ ও বিজেপির দীর্ঘ সংগ্রামের ইতিহাসকে কুর্নিশ জানানোর বার্তা।

কারণ, মাখনলাল সরকার শুধু একজন পুরনো কর্মী নন—তিনি বাংলায় গেরুয়া রাজনীতির প্রথম সারির সংগঠকদের অন্যতম মুখ। জানা গিয়েছে, বর্তমানে প্রায় ৯৭ থেকে ৯৮ বছর বয়সী মাখনলাল সরকার শিলিগুড়ির সূর্যনগর এলাকার বাসিন্দা।

তিনি একসময় রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ এর প্রচারক হিসেবে কাজ শুরু করেন। পরে ভারতীয় জনসংঘ এবং বিজেপির সংগঠন গড়ে তুলতে উত্তরবঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন। শিলিগুড়ি সাংগঠনিক জেলার প্রথম বিজেপি সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছিলেন তিনি।

দলের সূত্রে দাবি, ১৯৫২ সালে ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ঐতিহাসিক কাশ্মীর অভিযানে সফরসঙ্গী ছিলেন মাখনলাল সরকার। সেই সময় “এক দেশ, এক বিধান” আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে তাঁকে গ্রেফতারও করা হয়েছিল।

পরে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের মৃত্যুর পর দেশাত্মবোধক গান গাওয়ার অপরাধে দিল্লিতে তাঁকে আবারও গ্রেফতার করা হয় বলে বিজেপি নেতাদের দাবি।

আদালতে ক্ষমা চাইতে অস্বীকার করলে বিচারক তাঁকে গান গাইতে বলেন। গান শোনার পর বিচারক তাঁকে মুক্তি দেন এবং সম্মানের সঙ্গে বাড়ি পাঠানোর নির্দেশ দেন বলেও জানা গিয়েছে।

১৯৮০ সালে বিজেপি গঠনের পর উত্তরবঙ্গে সংগঠন বিস্তারের দায়িত্বও সামলান মাখনলাল সরকার। পশ্চিম দিনাজপুর, জলপাইগুড়ি ও দার্জিলিং জেলায় সদস্য সংগ্রহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল তাঁর। সেই সময় বাংলায় বিজেপির অস্তিত্ব প্রায় না থাকলেও, ঘরে ঘরে গিয়ে সংগঠনের কাজ করেছেন তিনি।

শনিবারের শপথ মঞ্চে তাই প্রধানমন্ত্রী মোদীর আচরণকে বিজেপির “আদি সৈনিকদের প্রতি শ্রদ্ধা” হিসেবেই দেখছে রাজনৈতিক মহল। মঞ্চে মাখনলাল সরকারকে উত্তরীয় পরিয়ে সম্মান জানান প্রধানমন্ত্রী। পরে শুভেন্দু অধিকারীকেও তাঁর সঙ্গে করমর্দন করতে দেখা যায়। প্রবীণ এই নেতার আশীর্বাদ নিতে দেখা যায় নতুন মুখ্যমন্ত্রীকেও।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বাংলায় বিজেপির প্রথম সরকার গঠনের দিনে মাখনলাল সরকারের উপস্থিতি ছিল এক প্রতীকী বার্তা—দলের শিকড়ের প্রতি সম্মান এবং পুরনো কর্মীদের অবদানের স্বীকৃতি। আর সেই কারণেই ব্রিগেডের বিশাল মঞ্চে প্রধানমন্ত্রী মোদীর আলিঙ্গন ঘিরে তৈরি হয়েছে বিশেষ রাজনৈতিক তাৎপর্য।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

nineteen − 12 =