সোনারপুরে অভিষেকের ওপর জনরোষ নিয়ে মমতা বললেন এবার টার্গেট অভিষেক

সুদেষ্ণা মন্ডল  :: সংবাদ প্রবাহ :: কলকাতা :: শনিবার ৩০,মে :: সোনারপুরে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় -র উপর বিক্ষোভ, ডিম-জুতো নিক্ষেপ এবং ধস্তাধস্তির ঘটনাকে ঘিরে শনিবার রাজ্য রাজনীতি উত্তাল হয়ে ওঠে।

একদিকে শাসক দল ঘটনাকে “জনরোষের বহিঃপ্রকাশ” বলে দাবি করেছে, অন্যদিকে তৃণমূল সুপ্রিমো ও রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি সরাসরি অভিযোগ করেছেন, অভিষেককে রাজনৈতিকভাবে টার্গেট করতেই এই ঘটনার পরিকল্পনা করা হয়েছিল।

শনিবার নিহত এক দলীয় কর্মীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে সোনারপুর যান অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে পৌঁছনোর পরই বিক্ষোভকারীদের একাংশ ‘চোর’ স্লোগান দিতে শুরু করে বলে অভিযোগ। পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, অভিষেককে লক্ষ্য করে ডিম, জুতো এবং কাদা ছোড়া হয়। ধস্তাধস্তিতে তাঁর জামা ছিঁড়ে যায় এবং চশমা ও ঘড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হয় বলে জানা গিয়েছে। পরে নিরাপত্তারক্ষীদের ঘেরাটোপে তাঁকে এলাকা ছাড়তে হয়।

ঘটনার কিছুক্ষণের মধ্যেই সামাজিক মাধ্যমে ক্ষোভ উগরে দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি দাবি করেন, এটি কোনও স্বতঃস্ফূর্ত বিক্ষোভ নয়, বরং শাসকের মদতে সংগটিত পরিকল্পিত আক্রমণ।

বিজেপির বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়ে তিনি বলেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতেই অভিষেককে নিশানা করা হয়েছে।

তাঁর বক্তব্য, গণতন্ত্রে রাজনৈতিক মতভেদ থাকতে পারে, কিন্তু হিংসা কখনও গ্রহণযোগ্য নয়। অন্যদিকে বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, সোনারপুরের ঘটনা সাধারণ মানুষের ক্ষোভেরই বহিঃপ্রকাশ। তাঁদের বক্তব্য, সাম্প্রতিক নির্বাচনী ফলাফল এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ইস্যুতে মানুষের অসন্তোষ ক্রমশ প্রকাশ্যে আসছে।

বিজেপির একাংশের মতে, তৃণমূল নেতৃত্ব সেই বাস্তবতা মেনে নিতে না পেরে ঘটনাকে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র বলে তুলে ধরছে।

ঘটনার পর অসুস্থ বোধ করায় অভিষেককে কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে হুইলচেয়ারে তাঁকে দেখা যায়। খবর পেয়ে হাসপাতালে পৌঁছন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়সহ দলের একাধিক শীর্ষ নেতা। চিকিৎসকদের একটি বিশেষ দল তাঁর শারীরিক অবস্থার পর্যবেক্ষণ শুরু করে।

সোনারপুরের এই ঘটনা শুধু রাজ্যেই নয়, দিল্লির রাজনৈতিক মহলেও ব্যাপক চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে। বিরোধী জোটের একাধিক নেতা রাজনৈতিক হিংসার নিন্দা করেছেন।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বিধানসভা নির্বাচনে ধাক্কার পর জনসংযোগের কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নামা অভিষেকের জন্য এই ঘটনা যেমন বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ, তেমনই তৃণমূলের ভবিষ্যৎ কৌশল নিয়েও নতুন প্রশ্ন তুলে দিল।

এখন নজর, এই ঘটনার রাজনৈতিক অভিঘাত কতদূর গড়ায় এবং “অভিষেককে টার্গেট করা হয়েছে” — মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই অভিযোগ আগামী দিনে রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে কতটা প্রভাব ফেলে

সর্ব শেষ প্রাপ্ত সংবাদে জানা যাচ্ছে  চিকিৎসার রিপোর্ট বলছে আঘাত বিশেষ গুরুতর নয়। আপাতত অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে হাসপাতালের কোনো বিশেষজ্ঞ পর্যবেক্ষণে দীর্ঘক্ষণ রাখার প্রয়োজন পড়ছে না|

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

8 − 2 =