নিজস্ব সংবাদদাতা :: সংবাদ প্রবাহ :: বর্ধমান :: মঙ্গলবার ২,জুন :: এক অভিনব দৃশ্যের সাক্ষী থাকল বর্ধমান আদালত চত্বর। মাথায় হেলমেট পরে আদালতে হাজির করা হল বর্ধমানের তৃণমূল বিধায়ক খোকন দাসকে। দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর উত্তরপ্রদেশের প্রয়াগরাজ থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ। মঙ্গলবার কড়া নিরাপত্তার মধ্যে তাঁকে আদালতে পেশ করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, একটি আর্থিক দুর্নীতি ও সরকারি প্রকল্পে অনিয়ম সংক্রান্ত মামলায় খোকন দাসের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছিল। কয়েক মাস আগে তদন্তকারী সংস্থা তাঁকে একাধিকবার তলব করলেও তিনি হাজির হননি বলে অভিযোগ। এরপর আদালতের নির্দেশে তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়।
সেই সময় থেকেই তিনি কার্যত আত্মগোপন করেছিলেন বলে দাবি তদন্তকারীদের। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে পুলিশের একটি বিশেষ দল প্রয়াগরাজে অভিযান চালায়। সেখানে একটি ভাড়া বাড়ি থেকে খোকন দাসকে আটক করা হয়। পরবর্তীতে তাঁকে ট্রানজিট রিমান্ডে পশ্চিমবঙ্গে আনা হয়।
মঙ্গলবার আদালতে পেশ করার সময় বিধায়কের মাথায় হেলমেট দেখা যায়। পুলিশের দাবি, আদালত চত্বরে বিপুল সংখ্যক বিক্ষোভকারী ও কৌতূহলী মানুষের ভিড়ের কারণে নিরাপত্তার স্বার্থেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। অন্যদিকে বিরোধীদের কটাক্ষ, “জনরোষের আশঙ্কাতেই হেলমেট পরে আদালতে আসতে হয়েছে বিধায়ককে।”
আদালত চত্বরে সকাল থেকেই উত্তেজনা ছিল তুঙ্গে। বিধায়কের সমর্থক ও বিরোধী শিবিরের কর্মীদের ভিড় জমে যায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। আদালতের বাইরে ব্যারিকেড করে নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়।
তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা নেতৃত্ব অবশ্য দাবি করেছে, খোকন দাস রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার। দলের এক নেতা বলেন, “আইনের ওপর আমাদের পূর্ণ আস্থা রয়েছে। আদালতেই সত্য প্রকাশ পাবে।”
অন্যদিকে বিরোধী দলগুলি দাবি করেছে, দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। তারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিও জানিয়েছে।
এদিন শুনানি শেষে আদালত খোকন দাসকে নির্দিষ্ট মেয়াদের পুলিশ হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেয়। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, আর্থিক লেনদেন, সম্পত্তির হিসাব এবং মামলার অন্যান্য অভিযুক্তদের সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়গুলি খতিয়ে দেখা হবে।
বর্ধমানের রাজনৈতিক মহলে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। আগামী দিনে তদন্ত কোন দিকে এগোয় এবং বিধায়কের বিরুদ্ধে কী নতুন তথ্য সামনে আসে, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের।

