নিজস্ব সংবাদদাতা :: সংবাদ প্রবাহ :: হাবড়া :: শনিবার ৬,জুন :: কথা ছিল দু’ বছরের মধ্যে চালু হবে হাবড়া শ্মশানের বৈদ্যুতিক চুল্লি। ২০১৮ সালে ঘটা করে শিলান্যাসও করেছিল তৃণমূল সরকার। মাঝে পার হয়ে গিয়েছে আটটি বছর। বৈদ্যুতিক চুল্লি আজও চালু হয়নি।
শ্মশান পরিদর্শনের পর হাবড়ার নবনির্বাচিত বিধায়ক দেবদাস মন্ডল ঘোষণা করে দিলেন, ‘আগামী ১৫ জুলাইয়ের মধ্যে ইলেকট্রিক চুল্লি চালু হবে। বিধায়কের ঘোষণায় আশ্বস্ত হলেন হাবড়ার বাসিন্দারা।’
হাবড়া পুরসভার অন্তর্গত ২১ নম্বর ওয়ার্ডের বাণীপুর এলাকায় রয়েছে হাবড়া পুরসভা পরিচালিত শ্মশান মুক্তিধাম। গাইঘাটা, হাবড়া, অশোকনগর, গুমা, বিড়া, কুমরা ও কাশীপুর-সহ বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষ মৃতদেহ সৎকারের জন্য হাবড়া পুরসভার শ্মশানে আসেন।
দীর্ঘদিন ধরে হাবড়া বাসীর দাবি ছিল শ্মশানে বৈদ্যুতিক চুল্লি চালু করা হোক। ২০১৮ সালের জুলাই মাসে লোকসভা নির্বাচনকে মাথায় রেখে তড়িঘড়ি হাবড়া শ্মশানের বৈদ্যুতিক চুল্লি প্রকল্পের শিলান্যাস করা হয়েছিল। প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ হয়েছিল তিন কোটি ১১ লক্ষ টাকা।
সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার শিলান্যাস এর ওই অনুষ্ঠানে ঘোষণা করেছিলেন, দু’ বছরের মধ্যে ইলেকট্রিক চুল্লি চালু হবে।
তারপর কেটে গিয়েছে টানা আটটি বছর। মাঝে দু’টি লোকসভা ও বিধানসভা ভোট পার হয়ে গিয়েছে। কিন্তু হাবড়া শ্মশানে ইলেকট্রিক চুল্লি চালু হয়নি। শুধুমাত্র অসম্পূর্ণ ভবন নির্মাণ করেই দায় সেরেছে তৃণমূল সরকার।
শুক্রবার হাবড়া শ্মশানের পরিস্থিতি সরেজমিনে খতিয়ে দেখতে বিধায়ক দেবদাস মন্ডল পরিদর্শনে যান। ইলেকট্রিক চুল্লির নির্মীয়মাণ ভবন-সহ অফিস ঘর ও বিশ্রামাগার ঘুরে দেখেন।
পরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘তৃণমূল সরকারের নেতা-মন্ত্রীরা কাজ শুরু হওয়ার আগে থেকেই টাকা সরানোর কাজ শুরু করেছিলেন। তাই, আট বছরেও একটা বৈদ্যুতিক চুল্লি চালু করতে পারল না।’
তারপরই বিধায়ক আশ্বাস দিয়ে বলেন, ‘আগামী ১৫ জুলাইয়ের মধ্যে হাবড়া শ্মশানের ইলেকট্রিক চুল্লি চালু হবে। সঙ্গে শ্মশানের চারপাশে সৌন্দর্যায়ন করা হবে। মৃতদেহ সৎকার করতে আশা পরিবারের লোকেদের জন্য স্বাচ্ছন্দ্যময় বিশ্রামাগার তৈরি করা হবে।’

