BREAKING NEWS :: মমতার বড় ঘোষণা: তৃণমূলের সব কমিটি ভেঙে দিল দল, শুরু সাংগঠনিক পুনর্গঠনের প্রক্রিয়া

নিজস্ব সংবাদদাতা :: সংবাদ প্রবাহ :: কলকাতা :: বুধবার ৩,জুন :: রাজ্যের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং দলের অভ্যন্তরীণ সংকটের আবহে বড়সড় সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নিল তৃণমূল কংগ্রেস।

বুধবার কালীঘাটে শীর্ষ নেতৃত্বের বৈঠকের পর দলনেত্রী ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করেন, তৃণমূল কংগ্রেসের সমস্ত সাংগঠনিক কমিটি অবিলম্বে ভেঙে দেওয়া হচ্ছে।

একই সঙ্গে যুব, ছাত্র, মহিলা, শ্রমিক, কৃষক-সহ দলের সমস্ত শাখা সংগঠনের বিদ্যমান কমিটিও বিলুপ্ত করা হয়েছে। দলনেত্রীর বক্তব্য, এটি কোনও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নয়, বরং দলের সাংগঠনিক পুনর্গঠনের একটি বৃহত্তর প্রক্রিয়ার সূচনা।

আগামী কয়েক মাসের মধ্যে নতুন নেতৃত্বকে সামনে এনে তৃণমূলকে আরও শক্তিশালী ও জনমুখী করে তোলাই এই পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য। কালীঘাটে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “দলকে নতুন করে সাজাতে হবে। মানুষের কাছে আরও বেশি করে পৌঁছতে হবে।

সেই কারণেই আমরা সমস্ত কমিটি ভেঙে দিয়ে নতুন করে সংগঠন গড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। যোগ্য, পরিশ্রমী এবং মানুষের সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের সামনে নিয়ে আসা হবে।”

দলীয় সূত্রে খবর, সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক নেতার বিদ্রোহ, সংগঠনের বিভিন্ন স্তরে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব এবং কর্মীদের মধ্যে অসন্তোষের জেরে নেতৃত্বের কাছে পুনর্গঠনের দাবি জোরালো হয়ে উঠেছিল।

সেই প্রেক্ষাপটেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ও অন্যান্য শীর্ষ নেতাদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত বৈঠকে জেলা, ব্লক, টাউন এবং ওয়ার্ড স্তরের সমস্ত সাংগঠনিক কাঠামো নতুন করে গড়ে তোলার রূপরেখা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

খুব শীঘ্রই একটি বিশেষ পর্যবেক্ষক কমিটি গঠন করা হবে, যারা রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় ঘুরে সংগঠনের বর্তমান অবস্থা খতিয়ে দেখবে এবং নতুন নেতৃত্বের নাম সুপারিশ করবে।

দলীয় মহলের একাংশের মতে, এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট বার্তা দিলেন যে সংকট মোকাবিলায় তিনি বড়সড় পরিবর্তনের পথে হাঁটতে প্রস্তুত।

একই সঙ্গে দলের পুরনো এবং নিষ্ক্রিয় নেতৃত্বের পরিবর্তে তরুণ ও সক্রিয় মুখদের সামনে আনার সম্ভাবনাও জোরদার হয়েছে।

রাজনৈতিক মহলে এই ঘোষণাকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। বিরোধী দলগুলি ইতিমধ্যেই দাবি করেছে যে দলের ভিতরে গভীর সংকট তৈরি হওয়ার ফলেই এমন পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছে তৃণমূল নেতৃত্ব।

যদিও তৃণমূলের তরফে সেই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে বলা হয়েছে, এটি সম্পূর্ণরূপে একটি সাংগঠনিক সংস্কার কর্মসূচি। এখন রাজনৈতিক মহলের নজর নতুন কমিটি গঠন এবং নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের দিকে।

পর্যবেক্ষকদের মতে, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই পরিষ্কার হয়ে যাবে তৃণমূল কংগ্রেসের নতুন সাংগঠনিক কাঠামো কেমন হতে চলেছে এবং কারা দলের ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের কেন্দ্রে উঠে আসছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

fourteen − 12 =